নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ কেন চাইছেন আন্দোলনকারীরা?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও বিভিন্ন তরুণ গোষ্ঠীর সদস্যরা। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা এ দাবি জানাচ্ছেন।
আন্দোলনকারীরা নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ও যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা জরুরি।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ
আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, মৃত, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করার উদ্যোগের আড়ালে বৈধ ভোটারদের নামও বাদ পড়তে পারে। এতে বহু মানুষ ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য হলো—অযোগ্য ও অনুপযুক্ত নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা নির্ভুল করতেই এই সংশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের মতে, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করার আশঙ্কা
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের সমর্থকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়লে নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা যাচাই করা প্রয়োজন।
বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ
কংগ্রেসসহ ভারতের বিভিন্ন বিরোধী দল ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিরোধী নেতাদের একাংশ এই প্রক্রিয়াকে ‘ভোট চুরি’ বলে আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের একাংশ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পরিবর্তে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের দাবিও তুলেছেন। তাদের মতে, ভোট গ্রহণ ও ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানো গেলে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আদালতের হস্তক্ষেপ ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আইনি বিতর্ক এবং আদালতের হস্তক্ষেপের বিষয়টিও আন্দোলনে গুরুত্ব পেয়েছে। আন্দোলনকারীরা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ চান।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের বক্তব্য, আইন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগই মূল দাবি
ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, বৈধ ভোটারদের অধিকার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি সামনে এসেছে।
আন্দোলনকারীরা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা, বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের অধিকার সুরক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
তবে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার দাবি, কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তি এবং আদালতের হস্তক্ষেপসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: রয়টার্স
