নাগাল্যান্ডের প্রথম নারী বিধায়ক হেকানি জাখালু
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৩, ০৬:৩৬ পিএম
হেকানি জাখালু
একাধিকবার সরকার গঠিত হলেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নাগাল্যান্ডের বিধানসভা এতদিন নারী বিবর্জিত ছিল।
এবার সেই ঘাটতিও পূরণ হলো। এই প্রদেশের ডিমাপুর-৩ কেন্দ্র থেকে জয়ী হলেন ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির হেকানি জাখালু। ওই প্রদেশের প্রথম নারী বিধায়ক তিনিই। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
ডিমাপুর-৩ কেন্দ্র থেকে হেকানি জাখালু পেয়েছেন ৩১ হাজার ৮৭৪ ভোট। যা শতাংশের বিচারে ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। ইতিহাসের পাতায় নাম তুলতে হেকানি হারিয়েছেন লোক জনশক্তি পার্টির অ্যাঝেটো ঝিমোমিকে। শতাংশের বিচারে তার প্রাপ্ত ভোট ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
নাগাল্যান্ডের প্রথম নারী বিধায়ক হেকানি জাখালু দিল্লির লেডি শ্রী রাম মহিলা কলেজ ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়েছেন। এরপর আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম করেন। পরবর্তীকালে তিনি দিল্লির একটি ল’ ফার্মে কাজ করতেন। ২০০৫ সালে ইয়ুথনেট নামে একটি এনজিও শুরুর চেষ্টায় নাগাল্যান্ডে ফিরে আসেন তিনি। এই সংগঠনের লক্ষ্য ছিল নাগাল্যান্ডের যুব সমাজের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করা।
এরই ফাঁকে জাখালু হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি এক্সিকিউটিভ এডুকেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৯ সালে শিশু ও মহিলা উন্নয়ন মন্ত্রণালয় থেকে জিতেছিলেন নারী শক্তি পুরস্কার। পরে এনডিপিপি নেতা তথা রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিওয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়েই সক্রিয় রাজনীতিতে নামেন জাখালু। ওই দলের পতাকা নিয়েই দাঁড়ান নির্বাচনে। শেষে জয় পান তিনিই।
নাগাল্যান্ড প্রদেশের প্রথম নারী বিধায়ক হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে ৪৮ বছর বয়সের এই আইনজীবী বলেন, ‘১৭ বছর ধরে আমি এনজিও-র মাধ্যমে তরুণদের জন্য কাজ করছি, কিন্তু সেই অবস্থান থেকে নির্দিষ্ট কাজ করা সম্ভব। এই কারণেই আমি আইন প্রণেতার কাজ করতেচেয়েছিলাম। রাজ্যের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বিধানসভায় প্রবেশ করতে চেয়েছিলাম। সুতরাং, প্রদেশ ও আমার নির্বাচনী এলাকায়, আমার নজর থাকবে তরুণ-তরুণীদের প্রতি। তাদের গড়ে তোলা এবং তাদের লালন-পালন করা, এবং অবশ্যই, একজন মহিলা বিধায়ক হিসাবে আমিও মহিলাদের জন্য লড়াই করব।’
জাখালু আরো বলেন, ‘আমার অন্যতম লক্ষ্য ডিমাপুর-৩ কেন্দ্রকে একটি মডেল নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা। এটি অনেক দিন ধরেই অবহেলিত। আমি চাই প্রত্যেকের তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার ভোগ করুক। আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্যও লড়াই করব। তারা রাজ্যের জনসংখ্যার অর্ধেক এবং তারাও নির্বাচনী এলাকার বিধায়ক ও মন্ত্রীদের নির্বাচন করছে। কিন্তু একবার বিধায়করা ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে তারা মানুষকে ভুলে যান। এই নিয়ম ভাঙতে চাইছি।’
