বন কর্মকর্তাদের সামনেই মেছোবাঘ পিটিয়ে হত্যা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে লোকালয়ে চলে আসা একটি মেছোবাঘকে ‘বাঘ’ ভেবে আতঙ্কে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকালে ছিলিমপুর গ্রামে আব্দুল আহাদ চৌধুরীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আরো পড়ুন: দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, আহত ১০
এদিকে, মেছোবাঘটিকে উদ্ধারে বন বিভাগ ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তারা ঘটনাস্থলেই ছিলেন না।
সুনামগঞ্জের মল্লিকপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেছেন, ‘উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর গ্রামবাসী মেছোবাঘটিকে হত্যা করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছিলিমপুর গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে একটি মেছোবাঘ ঝোপঝাড়ের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছিল। খবর পেয়ে শনিবার সকালে বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন প্রাণীটি উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও উদ্ধারকারী দল এটিকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, উদ্ধারে বিলম্ব দেখে একপর্যায়ে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে মেছোবাঘটির ওপর চড়াও হয় এবং পিটিয়ে হত্যা করে। নির্মম এই ঘটনাটি উপস্থিত বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের চোখের সামনেই ঘটে।
ছিলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, “বাঘ এসেছে বলে গ্রামে গুজব রটে গেলে লোকজন ভয় পেয়ে যান। এক পর্যায়ে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস আসলেও উদ্ধারের নামে তারা ‘কালক্ষেপণ’ করেন।”
কামালের অভিযোগ, ‘বনবিভাগ প্রাণীটি উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেননি। তাই গ্রামের লোকজন ক্ষুব্দ হয়ে প্রাণীটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এমন দৃশ্য আমার কাছে ভালো লাগেনি।’
জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান সাফরুজ ইসলাম বলেছেন, ‘লোকজন প্রাণীটিকে বাঘ মনে করে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে বলে শুনেছি। তবে বন বিভাগ আসার পরও প্রাণীটির বিচরণ ছিল। তারা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়ায় লোকজন উত্তেজিত হয়ে এ কাজটি করেছেন।’
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার দিনভর আমরা মেছোবাঘটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছি। কিন্তু উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এক পর্যায়ে আমাদের উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হলে উন্মত্ত জনতা মেছো বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে শুনেছি।’
