কে এই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৩:৩১ পিএম
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির (আইআরজিসি) সমর্থনপ্রাপ্ত রক্ষণশীল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ান মাত্র ৬০ বছর বয়সে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির-আবদুল্লাহিয়ান এবং প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি আজারবাইজান সীমান্ত সফর শেষে ফেরার পথে ১৯ মে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় তাদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা পশ্চিমাদের সন্দেহ করছেন। হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রক্সিযুদ্ধের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

২০২১ সালে তার নিয়োগকে পশ্চিমাদের সাথে রাইসি প্রশাসনের বিচ্ছিন্নতা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দিকে মনোনিবেশ করার অংশ হিসাবে দেখা হয়েছিল। ১৯৬০ সালে উত্তরাঞ্চলীয় শহর দামঘানে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা শেষ করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর পিএইচডি অর্জনের মাধ্যমে। এরপর তিনি যোগ দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবং দ্রুতই উন্নতি করেন।
১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে ইরাকে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে তার প্রথম পোস্টিং হয়। আমির-আবদুল্লাহিয়ানের প্রতি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আস্থার অংশ হিসেবে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলে তাকে তরুণ কূটনীতিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আমির-আবদুল্লাহিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, বিশেষত বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত, আরব ও আফ্রিকান বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং পারস্য উপসাগরীয় বিভাগের প্রধান হিসাবে। ইরাকের সাথে তেহরানের সম্পর্কের সঙ্গে তার জড়িত হওয়া এবং ইরানের পশ্চিমা প্রতিবেশী আইআরজিসির কার্যক্রম তাকে আইআরজিসির বৈদেশিক শাখা কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয়।

২০২০ সালে বাগদাদের কাছে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন সোলাইমানি। অনেকেই তাকে কাসেম সোলাইমানির সঙ্গে তুলনা করতেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে ইরানের রক্ষণশীল আইন প্রণেতা আলী আলিজাদেহ আমির-আবদুল্লাহিয়ানকে 'কূটনীতির সোলাইমানি' বলে অভিহিত করেছেন।
২০১৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের সঙ্গে তার মতবিরোধের গুঞ্জনের মধ্যে তিনি ওমানে ইরানের রাষ্ট্রদূত হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন। কিন্তু আমির-আবদুল্লাহিয়ান দ্রুত পরিস্থিতি সামলে তৎকালীন সংসদের স্পিকার আলী লারিজানির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন। যেখানে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুর সময় আমির-আবদুল্লাহিয়ান স্ত্রী এবং দুই সন্তান রেখে গেছেন।
