সেনাবাহিনী ছাড়াই চলছে বিশ্বের ২২ দেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৪ পিএম
নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য বিশ্বের প্রায় সব দেশেরই সেনাবাহিনী রয়েছে। এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই যুদ্ধ করে। আর তার জন্য চাই সেনাবাহিনী। যে দেশের সেনাবাহিনী যত শক্তিশালী সে দেশকে সবাই ভয় পায় সবচেয়ে বেশি। কিন্তু পৃথিবীতে এমনও দেশ রয়েছে, তাদের স্থায়ী বা নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। শুনতে অবাক লাগলেও পৃথিবীতে এমন অন্তত ২২টি দেশ রয়েছে।
বড় অঞ্চল হলেই যে দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে, এমন কিন্তু নয়। আর্কটিক ও আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। আয়তনের দিক থেকে দ্বীপটি যুক্তরাজ্যের ৯ গুণ বড়। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। কিন্তু আয়তনে এত বড় হলেও গ্রিনল্যান্ড দেশ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
নিজস্ব সীমানা এবং সীমানার ভেতর থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রায় সব দেশেরই সেনাবাহিনী রয়েছে।বিশ্বে ২০৬টি দেশ রয়েছে। কিন্তু সব দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়নি। যেমন কসোভো ২০০৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও দেশটিকে এখনও বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমানে ১৯৩টি দেশ জাতিসংঘের সদস্য।আবার জাতিসংঘের সদস্য না হয়েও দ্য কুক আইল্যান্ডস ও নিউয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই যুক্তির খাতিরে ধরে নেওয়া যায়, পৃথিবীতে ১৯৫টি আনুষ্ঠানিক দেশ রয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক সেনাবাহিনী না থাকা দেশগুলো বহির্দেশের আক্রমণ থেকে নিজেদের কিভাবে রক্ষা করে? এর উত্তর খুব সাধারণ। এসব দেশ সাধারণত অন্য দেশের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি ও আন্তঃসম্পর্কের মাধ্যমে তাদের ওপর প্রতিরক্ষার দায় ছেড়ে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বলা যেতে আইসল্যান্ড ও মোনাকোর কথা। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সদস্য হয়েও আইসল্যান্ডের সেনাবাহিনী না থাকা সত্যিই অবাক করা ব্যাপার। আর ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি থাকায় প্রায় ৩০০ বছর ধরে মোনাকো কোনো সেনাবাহিনী তৈরি করেনি।
কিছু দেশের ক্ষেত্রে আবার প্রতিরক্ষা নিয়ে বাড়তি মাথাব্যথা নেই। কারণ তারা কারও সাতেপাঁচে নেই। মার্শাল আইল্যান্ড, মাইক্রোনেশিয়ার মতো দেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে আগ্রহী নয়। ফেডারেল স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রয়েছে। তাই তারা ভালোমতোই যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পায়। স্পেন ও ফ্রান্সের মাঝে অবস্থিত অ্যানডোরার রয়েছে নামমাত্র সেনাবাহিনী। বিপদ- আর সংকটে সহায়তার জন্য দেখা মেলে তাদের, যুদ্ধে নয়।
নিজ দেশের প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল সামোয়া। প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে পানামার ক্ষেত্রেও। পানামার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকলেও নিজের স্বার্থেই দেশটিকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেনাবাহিনী না থাকা দেশের তালিকায় আরও রয়েছে- লিচেনস্টেইন, সান মারিনো, ডমিনিকা, গ্রানাডা, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রানাডাইন্স, মরিশাস, কোস্টারিকা, পালাউ, নিউয়ে, কুক আইল্যান্ড, কিরিবাতি, নাউরু, টুভালু, ভানুয়াতু, সলোমন আইল্যান্ড। আরও কিছু দ্বীপ রয়েছে, যেগুলো বড় বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করে নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করেছে।
