দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদল সশস্ত্র অপরাধীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নারীসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শহরের ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি অবৈধ বসতিতে সংঘটিত এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন। তবে কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আজ বুধবার (১০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও স্থানীয় পুলিশের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে ক্লিভল্যান্ড এলাকার ওই জনবসতিতে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। ক্লিভল্যান্ডের একটি পেট্রল স্টেশনের কাছে প্রথমে একটি সাদা রঙের টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়ি এসে থামে। গাড়িটি থেকে ১০ জনেরও বেশি সশস্ত্র সন্দেহভাজন ব্যক্তি নেমে ওই বসতির দুটি প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢোকে। এরপর তারা বিভিন্ন স্থানে সাধারণ বাসিন্দা ও পথচারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। নৃশংসতা চালিয়ে হামলাকারীরা আবার একই গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে গুলির খবর পেয়ে তাদের বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে আটজন পুরুষ ও তিনজন নারীর লাশ উদ্ধার করেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ ১০ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন পুরুষের মৃত্যু হয়। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ বাকি ৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জোহানেসবার্গ পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নৃশংস এই হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনার নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখতে এবং ঘাতকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।’
বিশ্বে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, এমন দেশগুলোর তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। বিশেষ করে দেশটির প্রান্তিক ও অবৈধ বসতিগুলোতে এই ধরণের বন্দুক হামলার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দক্ষিণ আফ্রিকান গানওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা গিডিওন জুবার্ট জানান, দেশটিতে বৈধভাবে নিবন্ধিত আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। তবে এর পাশাপাশি সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি অবৈধ অস্ত্র অপরাধীদের হাতে রয়েছে।
স্থানীয় অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এসব অবৈধ বসতিতে প্রায়ই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্যাং-সহিংসতা বা ব্যক্তিগত পুরোনো বিরোধের জেরে এমন রক্তপাত ঘটে। এর আগে গত বছরও জোহানেসবার্গের একটি মদের দোকানে (ট্যাভার্ন) বন্দুকধারীদের এমন এক হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছিলেন।
