যুক্তরাষ্ট্রের শান্ত থাকার আহ্বান
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৫ পিএম
ইসলামাবাদের ডি চকের উদ্দেশে রওনা হয় পিটিআই নেতাকর্মীরা। ছবি : ইন্টারনেট
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) কর্মীদের বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস আকার ধারণ করেছে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দেশটির পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
সংঘর্ষে নিহত ও আহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে
পুলিশ জানিয়েছে, শ্রীনগর হাইওয়েতে বিক্ষোভের সময় একটি দ্রুতগামী গাড়ি রেঞ্জার্স বাহিনীর চার সদস্যকে চাপা দিলে তাদের মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, এই ঘটনা বিক্ষোভকারীদের ইচ্ছাকৃত হামলা। এছাড়াও সংঘর্ষে দু’জন পুলিশ সদস্য নিহত ও বহু পুলিশ এবং সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পিটিআই দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাদের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
বিশাল গাড়িরবহর ইসলামাবাদের দিকে চলেছে - ইন্টারনেট
যুক্তরাষ্ট্রের শান্ত থাকার আহ্বান
পাকিস্তান সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি সংবিধান মেনে চলারও তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটন। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া যায়। সোমবার (২৫ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমরা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাই এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের পরামর্শ দেই। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দাবি জানাতে এবং সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানান এ মার্কিন কর্মকর্তা।
পিটিআইয়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের দাবি
পিটিআই নেতাদের দাবি, তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিতে চাচ্ছে। পিটিআই মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের কর্মীরা নিরস্ত্র এবং আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। সহিংসতা কখনও আমাদের পথ ছিল না।”
পিটিআই নেতা-কর্মীদের দাবি ইমরান খানকে মুক্তি দিতে হবে - ইন্টারনেট
ইসলামাবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুরের নেতৃত্বে হাজার হাজার পিটিআই কর্মী বিশাল গাড়িবহর নিয়ে ইসলামাবাদের ডি চকের উদ্দেশে রওনা হন। মঙ্গলবার সকালে তারা শ্রীনগর হাইওয়ের জিরো পয়েন্টে পৌঁছালে সংঘর্ষ চরমে ওঠে।
ডি চকে পৌঁছানো পিটিআই কর্মীদের লক্ষ্য হলেও, ওই এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে বিপুল সংখ্যক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ৭০০টির বেশি শিপিং কন্টেনার ব্যবহার করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদ কার্যত ‘কন্টেইনার সিটি’তে পরিণত হয়েছে।
সহিংসতায় মোড় নেয় বিক্ষোভ
পুলিশ ও পিটিআই কর্মীদের মধ্যে বারবার সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুঁড়ে তাদের আঘাত করেছে। অন্যদিকে, পিটিআই কর্মীরা বলছে, তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করছে।
স্থানীয় পিটিআই কর্মকর্তাদের দাবি, ইসলামাবাদজুড়ে অনেক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্কুল-কলেজও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলে থাকা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার স্ত্রী বুশরা বিবি দলীয় সমর্থকদের প্রতি চূড়ান্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইমরান খান আমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত আমরা এই যাত্রা থামাব না। আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকব।
বিশালায়তন শিপিং কন্টেনার ব্যবহার করে রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে - ইন্টারনেট
সরকারের কঠোর অবস্থান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রেঞ্জার্স বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তথাকথিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা নিন্দনীয়। এটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নয়, চরমপন্থা।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও পিটিআইয়ের ‘গোপন নেতৃত্বের’ দিকে আঙুল তুলে বলেন, এই নেতৃত্বের উদ্দেশ্য দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়া। আক্রমণকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের এই আন্দোলন ক্রমশ সহিংসতার দিকে মোড় নিচ্ছে। সরকার ও পিটিআই নেতৃত্ব উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ। ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এবং পিটিআইয়ের অনড় অবস্থানের ফলে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চরমভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
