ট্রাম্পের দাবি গ্যাসক্ষেত্রে হামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অগোচরে, ইসরায়েল বলছে ‘যৌথ হামলা’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
ছবি: হামলার পর ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রে হামলা নিয়ে মার্কিন-ইসরায়েল দ্বিমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই হামলার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করলেও, ইসরায়েল বলছে যে ওই হামলার আগে এ নিয়ে ‘মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সিদ্ধান্ত’ নেয়া হয়েছিলো এবং এটা ছিলো মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বুশেহর প্রদেশের আসালুয়েহ এলাকায় অবস্থিত বিশ্বের বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড’-এ গত বুধবার (১৮ মার্চ) যে ভয়াবহ বিমান হামলাটি হয়েছিলো, তা ছিলো ইসরায়েলি বাহিনীর ‘সিঙ্গেল অপারেশন’ এবং ওয়াশিংটনকে না জানিয়েই সেই হামলা চালিয়েছিলো ইসরায়েল।
তবে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-এর বরাত দিয়ে হামলা সম্পর্কে অবগত একটি ইসরায়েলি সূত্র দাবি করেছে যে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয় করেই এই হামলা চালিয়েছে— যা ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি একটি মার্কিন সূত্রও সিএনএনকে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলা সম্পর্কে অবগত ছিল।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলাকে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা ওই হামলার পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কাতারের প্রধান এলএনজি তরলীকরণ কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৭৫% ‘সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড’ ক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা হয়, ফলে এই হামলা দেশটির অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি বিশাল আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ কাতারের রাস-লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি জুড়ে থাকা অসংখ্য গ্যাসক্ষেত্র এবং ওই শহরে অবস্থিত বিশাল এলএনজি স্থাপণার ওপর ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেকগুলো দেশের যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাত প্রায় শতভাগ নির্ভরশীল হওয়ায়, এশিয়ার বড় অংশ জুড়ে অর্থনৈতিক ধ্বস নামার সম্ভাবনাও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আরো পড়ুন: এলএনজি নিয়ে বিপদে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ
ইরানে আক্রমণ শুরুর পর থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত মার্কিন-ইসরায়েল বাহিনী ইরানের কিছু জ্বালানি ডিপোতে হামলা চালালেও, সরাসরি কোনো তেল ও গ্যাস উৎপাদন স্থাপনায় আঘাত এড়িয়েই চলেছিল। কিন্তু যুদ্ধের ১৯তম দিন ১৮ মার্চ ইরানে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ঘটনা এই যুদ্ধের চেহারা বদলে দিতে পারে, এমনকি এই যুদ্ধ ভয়াবহ পরিণতির দিকে চলে যাওয়ারও সম্ভাবণা দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক-সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
