হ্যানয়ে জাপানের ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ ঘোষণা, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় গুরুত্ব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভিয়েতনাম সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে নতুন করে হালনাগাদ ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক (FOIP)’ উদ্যোগের ঘোষণা করেছেন।
চলতি মে মাসের ১ থেকে ৩ তারিখ তিনদিনের ভিয়েতনাম সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
শনিবার (২ মে) হ্যানয়ের ভিয়েতনাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ উদ্যোগের তিনটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র তুলে ধরেন তিনি।
তাকাইচি সানায়ে জানান, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
নতুন FOIP-এর প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডেটা-নির্ভর যুগের উপযোগী অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তোলা। এর মধ্যে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা জোরদার করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশগ্রহণ এবং অভিন্ন নীতিমালা বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয় জোরদারের ওপর জোর দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
তাকাইচি সানায়ে তার বক্তব্যে বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য, যেখানে সব দেশ সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা পাবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই হালনাগাদ উদ্যোগ আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
