লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একই পরিবারের ৪ বাংলাদেশি আহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলা আরও ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নাভানিয়া এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একই পরিবারের চার বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বিমান হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীর এলাকা খালি করার নির্দেশনার পর হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সাইদা ও টাইর শহরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ আদলুন মহাসড়ক দিয়ে সপরিবার পালিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই ওই ছয়জনের মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, প্রধান সড়ক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাভানিয়া এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় তাদের এক সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন।
এদিকে টাইর ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা খালি করার জন্য নতুন করে চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হয়েছে। ঐতিহাসিক টাইর শহরে রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলায় একটি বহুতল ভবন ও একটি ক্যাফেতে আগুন ধরে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে আছেন কি না, তা দেখতে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা মূলত হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে। তবে বাস্তবে একের পর এক হামলায় দেশটির বেসামরিক এলাকা ও জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোই বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই ব্যাপক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও নগরকেন্দ্রিক নির্বিচার হামলা সাধারণ মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলবে।
