প্রাথমিকে সমন্বিত নীতিমালার খসড়া ১৭ আগস্টের মধ্যে: ববি হাজ্জাজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যুগোপযোগী মূল্যবোধভিত্তিক নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এমন দাবি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে নতুন একটি সমন্বিত নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
রোববার সিলেট নগরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেশন পরিচালনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কর্মশালার সূচনা হয়েছে সিলেট থেকেই। উন্নত বিশ্বের শিক্ষা পদ্ধতির অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং দেশীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তার আলোকে একটি ফলপ্রসূ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং’ বা ভিত্তিমূল শিক্ষা শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী কারিকুলামে ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এই কারিকুলাম প্রস্তুতের কাজ চলছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে নতুন একটি সমন্বিত নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও বিবিধ সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন না হলেও তাদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ থাকবে। একই সঙ্গে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির অগ্রগতি বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এটি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। খাবারের গুণগত মান নিশ্চিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানা পরিদর্শন, প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সালের শুরুতেই এটি সারা দেশে একযোগে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাইভেট ও কেজি স্কুলের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর পর থেকে বেসরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কেও সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনবে। তাদের অবকাঠামো, শিক্ষকের মান ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হবে।
সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
