মসজিদে নববিতে ছবি তোলা নিয়ে ক্ষুব্ধ ইমাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মসজিদে নববিতে জুমার খুতবার মাঝপথে হঠাৎ থেমে যান ইমাম ড. সালাহ আল-বুদাইর। উপস্থিত ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাহকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে হবে এমনভাবে, যাতে মুসল্লিদের কোনো কষ্ট না হয় এবং তাদের ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
ঘনবসতি ভরা জুমার জামাতে খুতবা দিচ্ছিলেন ড. সালাহ আল-বুদাইর। একপর্যায়ে তিনি অল্প সময়ের জন্য থামেন। তারপর চিত্রগ্রাহকদের স্মরণ করিয়ে দেন, এই পবিত্র স্থানে দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। ছবি বা ভিডিও ধারণ যেন কারও একাগ্রতা নষ্ট না করে এবং ইবাদতের পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়—সেটিই তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন।
খুতবার ওই মুহূর্তের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকে একে সময়োপযোগী বার্তা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, পবিত্র স্থানগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হারামাইন শরিফাইনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে মোবাইল ও ক্যামেরার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওমরাহ পালনকারী, জিয়ারতকারী ও সাধারণ মুসল্লিরা স্মৃতি সংরক্ষণ বা স্বজনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ছবি ও ভিডিও তোলেন। ডিজিটাল যুগে এটি অনেকের কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত চিত্রগ্রহণ কখনো কখনো ইবাদতের গভীরতা ও একাগ্রতায় প্রভাব ফেলে। নামাজ, দোয়া, তাওয়াফ বা অন্যান্য ইবাদতের সময় ক্যামেরার সামনে নিজেকে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের বক্তব্য, ইবাদতের আসল লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন; তা সামাজিক মাধ্যমে প্রদর্শনের জিনিস হওয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মর্যাদাপূর্ণ ও শালীনভাবে স্মৃতি সংরক্ষণ এক বিষয়, কিন্তু এমনভাবে চিত্রগ্রহণ করা যা অন্যের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায় বা পবিত্র পরিবেশ নষ্ট করে—তা গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা, নীরবতা ও আধ্যাত্মিক আবহ রক্ষায় সচেতনতা জরুরি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ড. সালাহ আল-বুদাইরের এই সতর্কবার্তা শুধু সেদিনের উপস্থিত কয়েকজনের জন্যই ছিল না; প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে ইবাদত ও আত্মপ্রদর্শনের সূক্ষ্ম সীমারেখা সম্পর্কে গোটা মুসলিম সমাজের জন্য এটি একটি স্মারক হয়ে উঠেছে।
