×

আন্তর্জাতিক

৪ বছর কোমায় থাকার পর চিরবিদায় নিলেন থাই রাজকন্যা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

৪ বছর কোমায় থাকার পর চিরবিদায় নিলেন থাই রাজকন্যা

ছবি- সংগৃহীত

বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ চার বছর কোমায় থাকার পর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন থাইল্যান্ডের রাজকন্যা বজ্রকিতিয়াভা নারেন্দিরা দিব্যবতী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। আজ শুক্রবার (১২ জুন) থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজকুমারী দিব্যবতী ছিলেন থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজা মহা বাজিরালংকর্ণের প্রথম সন্তান।

রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পেটের ভেতরের সংক্রমণ, কোলাইটিস (কোলন বা মলাশয়ে সংক্রমণ), নিম্ন রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন এবং রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যার কারণে অবস্থার চরম অবনতি হলে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। রাজার উত্তরাধিকার হিসেবে অন্যতম শীর্ষ দাবিদার এই রাজকন্যার আকস্মিক প্রয়াণে পুরো থাইল্যান্ডজুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নাখোন রাতচাসিমায় এক সরকারি সফরে গিয়ে আকস্মিকভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন রাজকুমারী দিব্যবতী। প্রাথমিকভাবে হৃৎযন্ত্রের সমস্যার কথা জানা গেলে দ্রুত তাকে আকাশপথে রাজধানী ব্যাংককে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর থেকেই তিনি নিবিড় চিকিৎসায় কোমায় ছিলেন। ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া দিব্যবতীর মা রাজকুমারী সোম সাওয়ালি ছিলেন থাইল্যান্ডের তৎকালীন যুবরাজ মহা বাজিরালংকর্ণের প্রথম স্ত্রী। রাজা বাজিরালঙকর্ণ তাঁর চার স্ত্রীর ঘরে মোট ৭ সন্তানের মধ্যে মাত্র ৩ জনকে রাজকীয় পদবী ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন, যার অন্যতম ছিলেন দিব্যবতী। তিনি বেঁচে থাকলে এবং সুস্থ থাকলে রাজার মৃত্যুর পর দেশটির সিংহাসনের প্রথম দাবিদার হতেন।

থাই রাজপরিবারের সদস্য হলেও সরকারি প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন, কূটনৈতিক ক্যারিয়ার এবং বিশেষ করে নারী কয়েদিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য থাইল্যান্ডের মানুষের হৃদয়ে তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন শেষে দেশে ফিরে আইন পেশাকেই নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এই মেধারী রাজকন্যা।

২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে একজন আইনজীবী হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। এরপর ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া ও স্লোভাকিয়া—এই তিন দেশে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন।

কূটনৈতিক মিশন শেষে দেশে ফিরে তিনি আবারও অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে যোগ দেন এবং সামাজিক কল্যাণে মনোনিবেশ করেন। এ সময় থাই কারাগারগুলোতে বন্দি নারী কয়েদিদের জীবনমান সংস্কারের জন্য তিনি একটি বিশেষ দাতব্য তহবিল গঠন করেন, যেখান থেকে মূলত অন্তঃসত্ত্বা নারী কয়েদিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হতো।

তার এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে জাতিসংঘের অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কমিশন রাজকুমারী দিব্যবতীকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইনের শাসনের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে তাকে থাইল্যান্ডের রাজকীয় নিরাপত্তা কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন রাজা বাজিরালংকর্ণ এবং এ সময় তাঁকে সামরিক পদবী ‘জেনারেল’ দেওয়া হয়। রাজকীয় আভিজাত্যের বাইরেও একজন দক্ষ আইনবিদ ও সমাজসংস্কারক হিসেবে তাঁর এই চলে যাওয়া থাইল্যান্ডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

৯ যুগ্মসচিবকে বদলি

৯ যুগ্মসচিবকে বদলি

অর্থমন্ত্রীর বাজেট ব্রিফিং শুরু

অর্থমন্ত্রীর বাজেট ব্রিফিং শুরু

‘দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে’

ভারতীয় হাইকমিশনার ‘দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে’

রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি

রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App