উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সুপার টাইফুন ‘বাভি’র আঘাতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ। ঝড়টির প্রভাবে অঞ্চল দুটিতে বর্তমানে প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনটির প্রভাবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
সোমবার (৬ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, ‘টাইফুনটির স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি প্রশান্ত মহাসাগরের এসব দ্বীপের ওপর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।’
এনডব্লিউএসের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ঝড়। এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে।’
নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘এলাকাটিতে ইতোমধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল এমনিতেই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অঞ্চলটিতে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে।’
নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ রোটার মেয়রের কার্যালয় এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ‘ধ্বংসাত্মক ঝড়ো হাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। এ সময়ে বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
রোটার মেয়রের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এখনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে তীব্র ঝড় ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।’
আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডল জানান, ‘রোটার উত্তরে অবস্থিত সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত এপ্রিলে সুপার টাইফুন সিনলাকু গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর থেকেই অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ওই ঝড়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।’
এনডব্লিউএস জানিয়েছে, ‘সোমবার বিকেলের আগে বাতাসের গতি টাইফুনের মাত্রার নিচে নামার সম্ভাবনা নেই। এমনকি মধ্যরাতের পরও এটি ক্রান্তীয় ঝড়ের মাত্রার ওপরে থাকতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আওতাধীন জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) বাভিকে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সাধারণত কোনো ঝড়ের বাতাসের গতি ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি হলে সেটিকে সুপার টাইফুন বলা হয়। এনডব্লিউএস জানিয়েছে, এ ধরনের ঝড়ে ক্যাটাগরি ৪ বা ৫ মাত্রার হারিকেনের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা ক্যাটাগরি ৪ বা ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি হবে একাদশ। এর আগে টানা ৫৭ বছরে এমন শক্তিশালী ঝড়ের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি।
সূত্র: বিবিসি
