যে সাত ভুলে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে শেষ ষোলোতেই। নিউ জার্সিতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। তবে ম্যাচের পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এই হারের জন্য প্রতিপক্ষের নৈপুণ্যের পাশাপাশি নিজেদের একাধিক ভুলও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রক্ষণাত্মক কৌশলের ব্যর্থতা
পুরো ম্যাচজুড়েই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। বলের দখল নরওয়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় দলটি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরো সময়ই প্রতিপক্ষের হাতে ছিল। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে আক্রমণাত্মক ব্রাজিল দেখার প্রত্যাশা থাকলেও মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
পেনাল্টি কাজে লাগাতে না পারা
প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারেস। তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরজান নাইল্যান্ড। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমবার কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেনাল্টি মিস করলেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই ব্যর্থতাই পরে বড় মূল্য চুকাতে হয়েছে দলকে।
আরো পড়ুন : জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেললেন নেইমার
আক্রমণভাগে ধারহীনতা
বদলি হিসেবে নেমে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন এনদ্রিক। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কয়েকবার ভালো অবস্থানে গেলেও শেষ মুহূর্তে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। ফলে আক্রমণে প্রত্যাশিত ধার দেখাতে পারেনি ব্রাজিল।
হালান্ডকে আটকাতে ব্যর্থ রক্ষণ
নরওয়ের দুই গোলই করেছেন আর্লিং হালান্ড। একবার হেডে, আরেকবার দূরপাল্লার শটে। দুই ক্ষেত্রেই তাকে যথাযথভাবে মার্কিং করতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে এতটা জায়গা করে দেওয়ার সুযোগই কাজে লাগিয়েছে নরওয়ে।
চাপ সামলানোর ঘাটতি
ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং চাপের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তার অভাব আবারও ভুগিয়েছে সেলেসাওদের।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো
ম্যাচে মাত্র ৩৭ শতাংশ সময় বলের দখলে ছিল ব্রাজিল। কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেসরা মাঝমাঠে প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। ফলে ম্যাচের ছন্দ ও নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নরওয়ের হাতে চলে যায়।
নেইমারকে দেরিতে নামানোর সিদ্ধান্ত
পাকেতার অনুপস্থিতিতে শুরু থেকেই নেইমারকে খেলানোর প্রত্যাশা ছিল অনেকের। কিন্তু কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে শুরুতে মাঠে নামাননি। শেষ দিকে নেমে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও ম্যাচের ভাগ্য বদলানোর মতো সময় আর হাতে ছিল না। শুরু থেকেই তিনি খেললে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত বলে মনে করছেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে ভরা দল নিয়েও পরিকল্পনার দুর্বলতা, সুযোগ নষ্ট, মাঝমাঠের ব্যর্থতা এবং চাপের মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ব্রাজিলকে। এখন আত্মসমালোচনার মাধ্যমে ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
