চীনে আঘাত হানলো টাইফুন ‘বাভি’, ফিলিপাইনে নিহত ১৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
সড়ক থেকে ঝড়ে ভেঙে যাওয়া গাছ সরাচ্ছেন এক ব্যক্তি। রোববার চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে। ছবি: সংগৃহীত
চীনের পূর্বাঞ্চলের ঝেজিয়াং প্রদেশে টাইফুন ‘বাভি’ আঘাত হেনেছে। বাভি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
চীনের প্রাদেশিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থার বরাতে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে টাইফুন বাভি চীনের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়টি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ ও তাইওয়ানে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিপাত ঘটায়।
গত এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বাভি চীনে আঘাত হানা দ্বিতীয় টাইফুন। এর আগে সপ্তাহান্তে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে টাইফুন ‘মায়সাক’ আঘাত হেনেছিল।
চীনা কর্তৃপক্ষ ঝড়টির গতিপথে থাকা প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
রোববার ঘূর্ণিঝড়টি চীনে আঘাত হানার পর তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এটি চীনে পৌঁছানোর আগে উত্তর তাইওয়ান ও জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোতে তাণ্ডব চালায়। সেখানে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে, বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা।
বাভির প্রভাবে ফিলিপাইনে সৃষ্ট ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তাদের বেশিরভাগই দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের বাসিন্দা। দেশজুড়ে প্রায় ১১ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি থেকে সরে গেছেন, এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে বেশ কিছু বন্দর।
প্রাদেশিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রথম আঘাত হানে বাভি। সে সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। ইউহুয়ান শহরে আঘাত হানার সময় তীব্র বাতাস ও ভারী বর্ষণ হয়েছে। সিসিটিভি জানিয়েছে, এরপর ঝড়টি ইউয়েকুয়িং শহরে আঘাত হানে। সেখানে ভেঙে গেছে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি গাছ।
রোববার সকাল ১০টার দিকে ঝড়ের কেন্দ্রটি ঝেজিয়াং প্রদেশের রাজধানী হাংঝুর কাছাকাছি পৌঁছায়। সিনহুয়া জানিয়েছে, ঝেজিয়াংয়ের প্রাদেশিক কর্মকর্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ এবং আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত, নদীর পানি উপচে পড়া এবং ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
চীনে গত সপ্তাহ থেকে আবহাওয়া বেশ চরম ভাবাপন্ন। এতে দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস মেরিন সার্ভিস গত সপ্তাহে জানায়, মহাসাগরগুলো ইতিহাসের উষ্ণতম জুন মাস পার করেছে। আগামীতে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হতে পারে। উষ্ণ সমুদ্র ক্রান্তীয় ঝড়গুলোকে আরও শক্তিশালী করে ও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাবে দেখা দেয় ভারী বৃষ্টিপাত।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।
