‘মাকে হত্যা করেছে বাবা, আমাকে বাঁচাও’!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাকে মেরে ফেলেছে বাবা। বাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এক পড়শির বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলেন তরুণ। কিন্তু পারলেন না। উঠে দাঁড়ালেন। পিঠ থেকে রক্ত ঝরছিল। গুলি লেগেছে তাঁরও। কোনও মতে আরও এক পড়শির দরজায় টোকা দিলেন। পড়শি বেরিয়ে আসতেই তাঁকে যন্ত্রণাকাতর মুখে বললেন, ‘‘আমাকে বাঁচাও।’’ তার পরই লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত নারীর নাম শীতল জেরেসিয়েন। তিনি জর্জিয়ার লরেল ক্রিক ট্রেলে স্বামী কির্ক বি. জেরেসিয়েন ও ছেলে জেসনের সঙ্গে বসবাস করতেন। শীতল পেশায় একজন প্রযুক্তিবিদ ছিলেন এবং গুগলে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রতিবেশীদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার সময় শীতলের বাড়ি থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। কিছুক্ষণ পর তারা দেখতে পান, শীতলের ছেলে জেসন রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছেন। তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, “আমাকে বাঁচাও।”
প্রতিবেশীরা জানান, জেসনের পিঠে গুলি লেগেছিল। তিনি কোনোভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে এক প্রতিবেশী তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ শীতলের মরদেহ উদ্ধার করে এবং জেসনকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, জেসন প্রতিবেশীদের জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা কির্ক তাঁর মাকে গুলি করেছেন এবং তাকেও গুলি করেছেন।
ঘটনার পর কির্ক বি. জেরেসিয়েন পালিয়ে যান। পরে পুলিশের অভিযানে আটলান্টার কাছে কব কাউন্টি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে কব কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে জেসন ও কির্ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শীতল জেরেসিয়েন দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেছেন। তিনি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা করেন। প্রায় দুই দশক ধরে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর তিনি গুগলে যোগ দেন।
