কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞা, ১৬৩ ধারা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদে নামাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিমানবন্দর এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রাজপথে নামার ডাক দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আরো পড়ুন: ইরানের ৫ সেতু ও বিভিন্ন শহরে মার্কিন হামলা, নিহত ৮
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাখা হয়েছে জলকামানও। বিরাটি ও বাঁকড়া এলাকায় বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা।
সকাল থেকে বিধাননগর পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে চলছে প্রচার। মাইকে বলা হয়, ভারতীয় ন্যায় সংহীতার ১৬৩ ধারা (পূর্বের ১৪৪ ধারা) এই এলাকায় কার্যকর করা হয়েছে। তাই একসঙ্গে চারজনের জমায়েত করা যাবে না।
এদিকে, গৌরীপুর জামে মসজিদের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবাঞ্ছিত কাউকে সেখানে জমায়েত করতে দিচ্ছে না পুলিশ।
আরো পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে স্কুল ভ্যানে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ৩
১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত এই মসজিদের কারণে বিমান ওঠানামায় ঝুঁকি তৈরি হয় বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, এয়ারপোর্টের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য গৌরীপুর জামে মসজিদ বা বাঁকড়া মসজিদকে সরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যেই ওই মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ রয়েছে।
এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া সূত্রে জানানো হয়েছে, এয়ারপোর্টের সম্প্রসারণ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ওই মসজিদ অন্যত্র সরানো দরকার। মসজিদটির জন্য প্রবলভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। লাখ লাখ যাত্রীর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। মসজিদটি রানওয়ে সংলগ্ন হওয়ায় সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে রয়েছে এই মসজিদ।
আরো পড়ুন: উগান্ডায় বাস উলটে ২০ শিক্ষার্থীসহ নিহত ২১
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যেকোনো কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া যারা বিমানবন্দরের ভেতরে নামাজ পড়তে ঢুকছেন, তাদের জন্য কোনো বৈধ পাস ইস্যু হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ডের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে পৌঁছে তারা নামাজ পড়েন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য এই বিষয়টিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
