ইরানের ৫ সেতু ও বিভিন্ন শহরে মার্কিন হামলা, নিহত ৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টানা ষষ্ঠ রাতের হামলায় মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের পাঁচটি সেতু ও একাধিক শহরে হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ, সিরিক ও ইরানশহরসহ একাধিক স্থানে হামলায় আটজন নিহতসহ আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস-এর একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
আলাদা এক মার্কিন হামলায় হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামিরের কাছে দুটি সেতুতে আঘাত হানা হয়। এতে সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হন।
আরো পড়ুন: হরমুজের পর লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ
আইআরআইবি আরো জানায়, কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে চারটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকাতেও একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তাসনিমের খবরে বলা হয়, বন্দর আব্বাস–শিরাজ সেতু, যা বন্দর খামিরের কাছে অবস্থিত, সেটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এর ফলে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, বন্দর আব্বাসের পশ্চিমে তিনটি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহর-এ দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি বন্দর আব্বাসে হামলার পরবর্তী দৃশ্যের ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
মেহর আরো জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের ইরানশাহর বিমানবন্দরের কাছেও একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া, মেহর খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উপ-গভর্নরের বরাত দিয়ে জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজ-এর আশপাশের এলাকাগুলোও মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে।
পরে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, মার্কিন হামলায় মোট পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গারিভেহ এবং কাহুরেস্তান সেতুও রয়েছে, যেগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ রসদ পরিবহন ও সামরিক চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, তারা কুয়েতে মার্কিন সেনাবাহিনীর মোতায়েনকৃত বাহিনী ও রসদ সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার ভোরে প্রকাশিত আরেকটি বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা সিরিয়ার আল-তানফে অবস্থিত মার্কিন বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি, এতে একটি রাডার ব্যবস্থা ও কয়েকটি বিশেষ অভিযান-সংশ্লিষ্ট হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বৃহস্পতিবার জানায়, তারা ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন দফার হামলা সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালিত হলো।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। এর জবাবে যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান।
দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে মাত্র গত মাসেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়, যার জেরে উভয় পক্ষই ফের একে অপরের ওপর হামলা শুরু করেছে।
