উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নয়াদিল্লিতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিও নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজপথে নেমেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শহীদ দিবসের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতার মেয়ো রোডেও পৃথকভাবে শহীদ দিবস পালন করা হচ্ছে। ফলে ২১ জুলাইকে কেন্দ্র করে কলকাতাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, শহীদ দিবসের সভামঞ্চে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনার পর সোমবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে নির্মিত সভামঞ্চ পরিদর্শনে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়, গভীর রাতে বিজেপির কর্মীরা সভামঞ্চে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। তাদের দাবি, মঞ্চের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। দলটির ভাষ্য, এটি শুধু একটি মঞ্চে হামলার ঘটনা নয়; বরং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অনুভূতির ওপর পরিকল্পিত আঘাত।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা সন্ধ্যায় এখান থেকে ঘুরে গেছি। তখন সবাই উপস্থিত ছিল। বর্ষাকাল চলছে, তার ওপর চারদিক থেকে কর্মী-সমর্থকদের আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শহীদ পরিবারের বাড়িগুলো পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। কিন্তু শহীদদের স্মরণ করা থেকে আমাদের বিরত রাখা যাবে না। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা চলে এসেছি। এসে দেখি মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুতের লাইন ও মাইকের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে, পোস্টার-ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।”
তিনি আরো অভিযোগ করেন, বিজেপির ৬০ থেকে ৬৫ সদস্যের একটি বাইক বাহিনী হামলায় অংশ নেয়। তার দাবি, ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি আদালতের নির্দেশে জামিনে বাইরে রয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এমন কিছু তথ্য দেখেছেন, যেখানে অনুষ্ঠানটি নষ্ট করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তার অভিযোগ, পুলিশ ও বিজেপির কিছু কর্মীকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তাকে বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না এবং কার্যত নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
