গোপন ভিডিও ফাঁসে ফেঁসেছেন যেসব বিশ্বনেতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতির মাঠে নেতাদের অবস্থান যেমন প্রভাবশালী, তেমনই বেশ ভঙ্গুর। গোপন ক্যামেরা বা ‘স্টিং অপারেশন’-এর ফাঁদে পড়ে এক মুহূর্তেই ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে অনেক প্রভাবশালী বিশ্বনেতার। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসা এমন কিছু আলোচিত ঘটনা নিয়ে সাজানো এই প্রতিবেদন।
হাইনৎস-ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রাখ (অস্ট্রিয়া)
অস্ট্রিয়ার সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর হাইনৎস-ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রাখ ২০১৯ সালে ‘ইবিজা অ্যাফেয়ার’ নামে পরিচিত এক কেলেঙ্কারির জেরে পদত্যাগ করেন। জার্মান সাময়িকী ডার স্পিগেল ও জুডয়েচে জাইতুং প্রকাশিত একটি গোপন ভিডিওতে দেখা যায়, স্পেনের ইবিজা দ্বীপে তিনি এক রুশ ধনকুবেরের আত্মীয় পরিচয় দেওয়া এক নারীর সঙ্গে সরকারি চুক্তির বিনিময়ে সংবাদমাধ্যমের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত স্ট্রাখ পদত্যাগ করেন এবং অস্ট্রিয়ার তৎকালীন জোট সরকারও ভেঙে পড়ে।
ম্যাট হ্যানকক (যুক্তরাজ্য)
যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় ফাঁস হওয়া সিসিটিভি ফুটেজের কারণে পদত্যাগে বাধ্য হন।
ব্রিটেনে তখন কঠোর লকডাউন কার্যকর ছিল। সেই সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে হ্যানকককে তার এক নারী সহকর্মীকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করতে দেখা যায়।
জনসাধারণকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানানো একজন মন্ত্রীর এমন আচরণ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি পদ ছাড়েন।
লর্ড সিউয়েল (যুক্তরাজ্য)
যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সাবেক ডেপুটি স্পিকার লর্ড সিউয়েল ২০১৫ সালে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশের পর পদত্যাগ করেন।
দ্য সান-এর প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে নিষিদ্ধ মাদক সেবন এবং আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখা যায়। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের আচরণ ও নৈতিকতা রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরে তিনি পদ ছাড়তে বাধ্য হন।
বাঙ্গারু লক্ষ্মণ (ভারত)
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাবেক সর্বভারতীয় সভাপতি বাঙ্গারু লক্ষ্মণ ২০০১ সালে তহেলকা ডটকমের ‘অপারেশন ওয়েস্ট এন্ড’ স্টিং অপারেশনে ধরা পড়ে পদত্যাগ করেন।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে সাংবাদিকরা অস্ত্র ব্যবসায়ীর পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ভুয়া সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের অনুমোদনের বিনিময়ে নগদ অর্থ গ্রহণের দৃশ্য গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং বাঙ্গারু লক্ষ্মণ তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
প্রযুক্তির যুগে জবাবদিহি
গোপন ক্যামেরা, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্টিং অপারেশনের এসব ঘটনা দেখিয়েছে, আধুনিক সাংবাদিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির যুগে রাজনৈতিক ক্ষমতা বা উচ্চপদ ব্যবহার করে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ব্যক্তিগত বা পেশাগত অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জনমত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ক্ষমতাধর নেতাদেরও পদ ছাড়তে হয়েছে।
