×

আন্তর্জাতিক

এত কিছুর পরেও কেন শিক্ষামন্ত্রীকে আগলে রেখেছেন মোদী?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

এত কিছুর পরেও কেন শিক্ষামন্ত্রীকে আগলে রেখেছেন মোদী?

ছবি : সংগৃহীত

ভারতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন দেশটির রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শত শত শিক্ষার্থী। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে সহিংস রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে এই ছাত্র আন্দোলন।

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে গত সোমবার পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে, যার জেরে অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। তবে এত চাপের মধ্যেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরানোর কোনো ইঙ্গিত দেয়নি সরকার।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিতর্ক বা জনমতের চাপের মুখে মন্ত্রীদের পদত্যাগ না করানো মোদী সরকারের দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক ধারা। গত এক যুগে বড় ধরনের সমালোচনা বা দেশজুড়ে আন্দোলনের মুখেও কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করার নজির খুবই কম।

এর একটি উদাহরণ ২০১৫ সালের উত্তর প্রদেশের দাদরি হত্যাকাণ্ড। গরুর মাংস রাখার অভিযোগে মোহাম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তৎকালীন কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মা ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনার মুখে পড়েন। তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠলেও তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়নি।

পরের বছর ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্তের মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় সম্মান জানানোর ঘটনায়ও মহেশ শর্মা বিতর্কে জড়ান। এরপরও ২০১৯ সালে মোদীর দ্বিতীয় মেয়াদের আগ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দলিত শিক্ষার্থী রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার ঘটনাও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দারু দত্তাত্রেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তাঁদের চিঠির চাপের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁদের পদত্যাগের দাবি জোরালো হলেও কেউই পদ ছাড়েননি। পরে স্মৃতি ইরানিকে অন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং বান্দারু দত্তাত্রেয় পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পান।

২০২১ সালে উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষক আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র তেনির ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় চারজন কৃষকসহ মোট আটজন নিহত হন। দেশজুড়ে অজয় মিশ্রের পদত্যাগের দাবি উঠলেও তিনি দীর্ঘ সময় মন্ত্রিসভায় বহাল থাকেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি দায়িত্ব হারান।

মোদী সরকারের সময় ব্যতিক্রমী একটি পদত্যাগ দেখা যায় করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর। স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন দায়িত্ব ছাড়েন। পরে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়ান।

মোদী সরকারের সমালোচকদের দাবি, অতীতে কংগ্রেস আমলে বড় ধরনের বিতর্ক বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার ঘটনায় অনেক মন্ত্রী নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সরকারের অবস্থান ভিন্ন; জনদাবি বা আন্দোলনের মুখেও মন্ত্রীদের পদে বহাল রাখার প্রবণতাই এখন কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল দেশে ফিরছেন স্পিকার

সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল দেশে ফিরছেন স্পিকার

রক্তের অক্ষরে লেখা স্বাধীনতা: ইতিহাসের আড়ালে থাকা সূর্যসন্তানেরা

রক্তের অক্ষরে লেখা স্বাধীনতা: ইতিহাসের আড়ালে থাকা সূর্যসন্তানেরা

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে

রাষ্ট্রপতির ‘পদত্যাগ’ নিয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ

রাষ্ট্রপতির ‘পদত্যাগ’ নিয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App