সোনম ওয়াংচুক
‘হাসপাতাল নয়, যেন উত্তর কোরিয়ায় ছিলাম’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন, দিল্লির সফদারজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে কার্যত বন্দির মতো রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ১৮ জুলাই ভোরে চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে পুলিশ তাকে দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে প্রকাশিত ২৪ মিনিটের একটি ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি হাসপাতাল ছিল না, বরং একটি ক্যান্টনমেন্ট বা কারাগারের মতো ছিল। আমাকে এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যেভাবে হয়তো কোনো বন্দিকেও রাখা হয় না।’
পরে দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার তাকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে দেওয়া ভিডিওবার্তায় ওয়াংচুক বলেন, হাসপাতালে তাঁর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ঘরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি ছিল না, এমনকি তাঁদের কক্ষের আশপাশেও কাউকে আসতে দেওয়া হয়নি। মাত্র তিনজন আত
লাদাখের এই সমাজকর্মী আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি ন্যাপকিনে লিখে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করতেন, কিন্তু অনেক সময় সেগুলোও জব্দ করা হতো।
পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন উত্তর কোরিয়ায় আছি।’
ওয়াংচুকের অভিযোগ, মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরও সফদারজং হাসপাতাল থেকে বের হতে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে মেদান্তা হাসপাতালেও একই ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষের বাইরে পাঁচ থেকে ১০ জন পুলিশ এবং হাসপাতালের নিচে আরও ২০০ থেকে ৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। তিনি বলেন, ‘পুরো হাসপাতালটিকেই যেন একটি সামরিক ক্যাম্পে পরিণত করা হয়েছিল। এখানেও কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগ ছিল না। এখনো বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ রয়েছে।’
এদিকে শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো।
তিনি লেখেন, ‘সফদারজং ও মেদান্তা- দুই হাসপাতালেই সর্বত্র পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে। প্রধান ফটক, রিসেপশন, লিফট থেকে শুরু করে সোনম ওয়াংচুকের আইসিইউর বাইরেও পুলিশ মোতায়েন আছে। কে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন আর কে পারবেন না, সেটিও পুলিশ ঠিক করছে। আদালত যদি বলে থাকে তিনি আটক নন, তাহলে এমন নিয়ন্ত্রণ কোন ক্ষমতাবলে করা হচ্ছে?’
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে সিজেপি পরিচালিত আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার সিজেপি-র ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না। পাশাপাশি শিক্ষা সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় আনা হবে এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
