ব্রিকসের মঞ্চে কি কমবে ঢাকা-দিল্লির দূরত্ব?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, এই আমন্ত্রণকে তা নিরসনের সম্ভাব্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম সরাসরি বৈঠক।
উন্নয়নশীল অর্থনীতির জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। জোটটির সদস্য দেশ হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়, তবে বর্তমানে বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন)-এর চেয়ারম্যান হওয়ায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছেছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সাম্প্রতিক এই উদ্যোগকে সেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক হার্শ প্যান্টের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ঢাকার সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তার ভাষায়, উভয় দেশই পারস্পরিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সাত সদস্যের আঞ্চলিক জোট বিমসটেককে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক সংযোগ ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগামী বছর সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্ণ করবে এবং এ উপলক্ষে ঢাকায় শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি দিল্লির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়াকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে দিল্লির সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের জন্য বন্ধুপ্রতিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা এবং বিভিন্ন সমুদ্রপথে সংকটের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। লন্ডনভিত্তিক গবেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকার বলেন, পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
এদিকে, তারেক রহমানের সরকার দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, সংস্থাটির অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তার বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সার্ক ২০১৬ সালে উরি হামলার পর ভারত সম্মেলন বর্জন করলে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু সার্ক পুনরুজ্জীবনের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সার্ক আবার সক্রিয় হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নতুন গতি পেতে পারে।
