নারীরা স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ ও বিয়ে করলে বাধা দিতে পারবে না: এলাহাবাদ হাইকোর্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন, নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে বা ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে উত্তর প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুই নারীর বাবাকে আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দিব্যা ভাটিয়া ওরফে জোয়া দিয়া ভাটিয়া (২০) এবং অংশু ভাটিয়া ওরফে আমিনা অংশু ভাটিয়া (৩৫)-এর করা একটি হেবিয়াস কর্পাস আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি সন্দীপ জৈন এ পর্যবেক্ষণ দেন।
আবেদনে দুই বোন অভিযোগ করেন, তারা স্বেচ্ছায় হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ এবং নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের বাবা বেআইনিভাবে আটকে রেখেছেন।
আরো পড়ুন: ‘গণমাধ্যমে হাসিনার কথা বলায় ভারত সরকারের কোনো বাধা নেই’
আদালত বলেন, আবেদনকারী দুই নারীই প্রাপ্তবয়স্ক। তাই ধর্ম, বিয়ে, বসবাস ও ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে। আদালতের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে বাবা বা অন্য কারও হস্তক্ষেপ সংবিধান-স্বীকৃত মর্যাদা, গোপনীয়তা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
আবেদনে আরও বলা হয়, দুই বোনের বাবা স্থানীয় পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় তাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখেছেন এবং চলাফেরার স্বাধীনতায় বাধা দিচ্ছেন।
তবে আদালত স্পষ্ট করেন, দুই নারী স্বেচ্ছায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না এবং তারা কোনো ধরনের বেআইনি আটক বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করাই আদালতের প্রধান উদ্দেশ্য।
আরো পড়ুন: ঘুমন্ত নারীর মাথা কামড়ে ৩০০ মিটার টেনে নিল বাঘ
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আবেদনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী দুই নারী স্বেচ্ছায় হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় দুই নারীকে আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিন তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে আদালত নিশ্চিত হতে চান যে, তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বর্তমানে তাদের অবস্থান বা হেফাজত আইনসম্মত কি না।
পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, নির্ধারিত দিনে দুই নারীকে হাজির করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিল করতে হবে। সেখানে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কেন তা কার্যকর হয়নি এবং পরবর্তী করণীয় কী— তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
