ঘুমন্ত নারীর মাথা কামড়ে ৩০০ মিটার টেনে নিল বাঘ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় গভীর রাতে ঘুমন্ত এক নারীর ওপর বাঘের ভয়াবহ হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। কুঁড়েঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বাঘটি নারীর মাথা কামড়ে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের চিৎকার ও ধাওয়া খেয়ে বাঘটি পালিয়ে গেলেও গুরুতর আহত ওই নারী পরে হাসপাতালে মারা যান।
রোববার (২ আগস্ট) ভোররাতে কানহা জাতীয় উদ্যানের খাপা রেঞ্জের অন্তর্গত পররাপুর বৈগাটোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে রাত দেড়টার দিকে বাঘটি লোকালয়ে প্রবেশ করে।
নিহত সুগনি বাই ধুরভে (প্রায় ৩০) নিজ কুঁড়েঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় বাঘটি ঘরে ঢুকে তার মাথা কামড়ে বাইরে টেনে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা টর্চ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে বাঘটি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে তাকে ফেলে জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সুগনি বাইকে বাইহারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় গুরুতর আঘাতই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ।
কানহা জাতীয় উদ্যানের সিজহোরা বাফার জোনের এক সহকারী কর্মকর্তা জানান, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। এদিকে পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে কৌশলগত চাপে যুক্তরাষ্ট্র
বন বিভাগ জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে ওই এলাকায় বাঘ ও চিতাবাঘের লোকালয়ে প্রবেশের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় একটি খাঁচা বসানো এবং বনাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। পাশাপাশি বাসিন্দাদের রাতে ঘরের দরজা বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনে জঙ্গলে না যাওয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের একা বাইরে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, নিহতের পরিবার দরজাবিহীন একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করছিল। তারা অত্যন্ত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ আদিবাসী পরিবার হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা পায়নি। ফলে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
