×

আন্তর্জাতিক

মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কতা

ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া

ছবি : সংগৃহীত

ন্যাটো জোটের সংহতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সদস্যভুক্ত কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে সীমিত পরিসরের হামলা চালাতে পারে রাশিয়া- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলতি শরৎকাল থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ব ইউরোপে সীমিত স্থল অনুপ্রবেশ, সাইবার হামলা কিংবা অন্যান্য উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়া উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।

এর আগে মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অন্য কোনো ফ্রন্টে হামলা চালাবেন না। তবে নতুন মূল্যায়নে সেই অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গত মাসে দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কিছু তথ্য পেয়েছে, যাতে পোল্যান্ডে সশস্ত্র উসকানি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা কিংবা ইউক্রেনের ওপর দায় চাপাতে তথাকথিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা সাজানো হামলার পরিকল্পনার আভাস রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি এবং যুদ্ধের পঞ্চম বার্ষিকীর আগে ইউক্রেনকে দেওয়া সমর্থন দুর্বল করাই এসব পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হতে পারে।

সম্প্রতি পোল্যান্ডে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়া এবং মঙ্গলবার জার্মানির লাইপজিগ/হ্যালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন উদ্ধার হওয়ার পর নতুন করে এমন আশঙ্কা সামনে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ড্রোনটির লক্ষ্য ছিল অস্ত্র বহনকারী একটি ইউক্রেনীয় বিমান।

ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই সতর্ক করে আসছেন পোল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চলের নেতারা।

বৃহস্পতিবার লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে বাল্টিক অঞ্চলে হামলার পরিকল্পনা করছে ক্রেমলিন। তার মতে, ইউরোপে বিভক্তি তৈরি এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দুর্বল করতেই মস্কো এ ধরনের ‘সাজানো হামলা’ চালাতে পারে।

একই দিন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, রাশিয়ার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে যেসব তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে, তা প্রকৃত পরিস্থিতির কেবল ‘হিমশৈলের চূড়া’।

তিনি গত মাসে প্লাইমাউথের কাছে ইংলিশ চ্যানেলে রুশ যুদ্ধজাহাজ নিউস্ট্রাশিমি-এর লাইভ ফায়ার মহড়ার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড লোকদেখানো, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং স্পষ্টতই উসকানিমূলক।

স্ট্রিটিং দ্য সান-কে বলেন, প্রতিদিনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দেখা যায়। চ্যানেলে গোলাবর্ষণের ঘটনা তারই একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।

মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এখন ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুতিন।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের শুরুতে তাদের মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। কারণ, ইউক্রেনে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সম্ভাব্য হুমকির মধ্যে সাইবার হামলা, পরিচয়হীন গোষ্ঠীর মাধ্যমে নাশকতা এবং ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে সীমিত স্থল অনুপ্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সরাসরি স্থল হামলার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঝুঁকি বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি হামলা হলে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, জোটের একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

দ্য টেলিগ্রাফ আরও জানিয়েছে, ন্যাটোর সর্বশেষ গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছে, সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের পরিবর্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নাশকতা কিংবা অন্যান্য হাইব্রিড কৌশল বেছে নিতে পারেন পুতিন। কারণ সামরিকভাবে ন্যাটোকে পরাজিত করা রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত কঠিন।

ন্যাটোর মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও’ডোনেল বলেন, প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার জন্য জোট পুরোপুরি প্রস্তুত। সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই ন্যাটো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মঙ্গলবার লাইপজিগ/হ্যালে বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের পাশে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়। এর উৎস নিশ্চিত না হলেও জার্মানির কয়েকজন রাজনীতিক এ ঘটনার জন্য মস্কোকেই দায়ী করেছেন।

সেমটেক্স বিস্ফোরক বহনকারী ওই ড্রোনটি উদ্ধার হওয়ার পর জার্মান কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসবাদবিরোধী তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনার কারণে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

পূর্ব জার্মানির এই বিমানবন্দরটি ন্যাটো ও জার্মান সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে এটি আন্তোনভ কার্গো বিমানের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ন্যাটো জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হবে জোটের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করা এবং ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা কমিয়ে আনা।

গত মে মাসে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসের দিকে উড়ে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করতে ন্যাটো যুদ্ধবিমান মোতায়েন করলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তার স্বার্থে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

এ ছাড়া গত মাসে পোল্যান্ডের একটি গ্রামের কাছে কেএইচ-১০১ মডেলের বলে ধারণা করা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরের টারনাওয়া-কোলোনিয়া গ্রামের কাছে আঘাত হানা ওই ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে প্রায় ১০ মিটার প্রশস্ত একটি গর্তের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর ন্যাটো রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া’ আচরণের অভিযোগ তোলে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের হজ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের হজ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

এক দফার ঘোষণা কোনো একক ব্যক্তির নয়: নুর

এক দফার ঘোষণা কোনো একক ব্যক্তির নয়: নুর

গণভোটের অধিকার চুরি করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

গণভোটের অধিকার চুরি করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

‘জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ’

‘জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App