মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করেছে লেবানন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির পার্লামেন্ট প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ একটি বিল পাস করার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্য দিয়ে দেশটির আইন ও রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২৮ সদস্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থনে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের বিলটি পাস হয়। তবে বিলটির বিরোধিতা করেছে হিজবুল্লাহর পার্লামেন্টারি ব্লক।
বিলটি পাস হওয়ার পর লেবাননের বিচারমন্ত্রী আদেল নাসসার এটিকে দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন আইনের ফলে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে দণ্ডপ্রাপ্তদের কঠোর পরিশ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
লেবাননে ২০০৪ সাল থেকেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ ছিল। তবে দেশটির আদালতগুলোতে নিয়মিতভাবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হচ্ছিল। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটির কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৮৫ জন বন্দি ছিলেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল লেবাননের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি এটিকে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছে।
তবে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা লেবাননের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার সংকট রয়েছে। ফলে নতুন আইনে নির্ধারিত কঠোর সশ্রম কারাদণ্ড কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পাশাপাশি ১৯৯০ সালে শেষ হওয়া গৃহযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়েও পার্লামেন্টে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই আইনের আওতায় সহিংস অপরাধে দণ্ডিত কিছু বন্দির সাজা কমতে পারে কিংবা তারা মুক্তি পেতে পারেন।
তবে নিহত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ক্ষমার উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিবর্তে সাজা কমিয়ে দেওয়া বা মুক্তি দেওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা।
