শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের ‘শুভেচ্ছা’, ছাত্রশক্তি নেতা বহিষ্কার-পুলিশে সোপর্দ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁকে আশুলিয়া থানা–পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
বহিষ্কৃত মো. রাব্বি হোসেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র এবং গত বছর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে রাব্বি হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের জাবি শাখার কর্মী মৃন্ময় দাস ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিন সম্পর্কিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন। ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে রাব্বি হোসেন ‘শুভ জন্মদিন আপা’ লিখে লাভ ইমোজি দিয়ে মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলনে অচলাবস্থা চুয়েটে
মুহূর্তেই ওই মন্তব্যটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন রাব্বি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা তাঁকে উদ্ধার করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসে এবং বিকেল পৌনে চারটার দিকে আশুলিয়া থানা–পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “যতদূর জেনেছি, ওই ছাত্রের ফেসবুকে করা একটি কমেন্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ছাত্রলীগ যেহেতু নিষিদ্ধ সংগঠন, পুলিশের তদন্তে এ বিষয়ে কোনো সংশ্লিষ্টতা মিললে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”
অভিযুক্তের দাবি:
তবে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি ‘ব্যঙ্গাত্মক’ (সার্কাজম) ছিল বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত রাব্বি হোসেন। তিনি বলেন, “আমি ২০২৪ সালের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমি কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, ওই কমেন্টটি আমি নিছক ব্যঙ্গ করে করেছিলাম।”
এদিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে থানায় আনা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
