বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ আজ, বাংলাদেশে দেখা যাবে কখন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আজ বুধবার (১২ আগস্ট), বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। প্রায় দুই বছর পর আবারও সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসায় চাঁদের ছায়ায় সম্পূর্ণরূপে ঢেকে যাবে সূর্যের আলো। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে দিনের আলো মুহূর্তের মধ্যেই গাঢ় অন্ধকারে বদলে যাবে।
পশ্চিম ইউরোপের আকাশে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ১৯৯৯ সালের পর প্রথমবারের মতো অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থান থেকে এমন বিরল দৃশ্য দেখা যাবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্টের এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথ উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্পেন ও পর্তুগালের একটি ছোট অংশের ওপর দিয়ে যাবে।
চাঁদের ছায়ার পূর্ণগ্রাসের পথ শুরু হবে উত্তর সাইবেরিয়ার কাছাকাছি অঞ্চল থেকে। এরপর তা আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে আইসল্যান্ড এবং উত্তর স্পেনের ওপর দিয়ে অগ্রসর হবে। ইউরোপের বেশির ভাগ অঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় অবশ্য পূর্ণগ্রাস নয়, আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করলে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে। এই ছায়ার কেন্দ্রীয় ও অপেক্ষাকৃত অন্ধকার অংশকে বলা হয় ‘অম্ব্রা’ বা প্রচ্ছায়া। পৃথিবীর যে সরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ছায়া অতিক্রম করে, সেখান থেকেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।
আইসল্যান্ডের রাজধানী রিকজাভিকে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে। বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে শুরু হবে পূর্ণগ্রাস এবং প্রায় এক মিনিট পর তা শেষ হবে। স্পেনের লিয়নে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৮ মিনিটে পূর্ণগ্রাস শুরু হয়ে ৮টা ৩০ মিনিটে শেষ হবে। দেশটির ভ্যালেন্সিয়া ও জারাগোজাতেও সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়ে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে।
আরও পড়ুন: চীনা বিজ্ঞানীদের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত
পূর্ণগ্রাস ও বলয়গ্রাসের পার্থক্য
পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের পরিবর্তনের কারণে আকাশে চাঁদের আপাত আকারও কিছুটা পরিবর্তিত হয়। চাঁদ যখন তুলনামূলক বড় দেখায় এবং সূর্যের চাকতিকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে, তখন ঘটে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এ সময় দিনের আলো হঠাৎ কমে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসে এবং সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা ‘করোনা’ দৃশ্যমান হতে পারে।
অন্যদিকে, চাঁদ যখন পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকে এবং আকাশে তার আপাত আকার সূর্যের চেয়ে ছোট দেখায়, তখন সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। ফলে চাঁদের চারপাশে সূর্যের উজ্জ্বল অংশের একটি বলয় দেখা যায়। এটিই বলয়গ্রাস বা ‘রিং অব ফায়ার’ সূর্যগ্রহণ।
ইউরোপের কোথায় কেমন দেখা যাবে
পূর্ণগ্রাসের সরু পথের বাইরে ইউরোপের বড় একটি অংশে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনে সূর্যের প্রায় ৯১ শতাংশ, প্যারিসে ৯২ শতাংশ, বার্লিনে ৮৫ শতাংশ এবং মাদ্রিদে প্রায় ৯৯ শতাংশ সূর্য চাঁদের আড়ালে চলে যাবে। বার্সেলোনাতেও প্রায় ৯৯ শতাংশ সূর্য ঢাকা পড়বে।
পূর্ণগ্রাসের সময় কয়েক মিনিটের জন্য আকাশ অন্ধকার হয়ে গেলেও এ দৃশ্য দেখার ক্ষেত্রে চোখের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আংশিক সূর্যগ্রহণের সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না; অবশ্যই নিরাপদ সৌর চশমা বা অনুমোদিত সোলার ভিউয়ার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস এ ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়।
আরও পড়ুন: সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টায় নাসা
পরবর্তী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কোথায়
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২ আগস্ট আরেকটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে দক্ষিণ স্পেন, উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, সৌদি আরব ও ইয়েমেনে। এরপর ২০২৮ সালের ২৬ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
বাংলাদেশে দেখা যাবে কি?
বাংলাদেশ থেকে আজকের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। কারণ গ্রহণের যে সময়ে বাংলাদেশে তা ঘটবে, তখন সূর্য দিগন্তের নিচে থাকবে। ফলে দেশের কোনো অঞ্চল থেকেই সরাসরি এ মহাজাগতিক দৃশ্য পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে না।
তবে আকাশপ্রেমীরা নাসাসহ বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার অনলাইন লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে ১২ আগস্টের এই বিরল সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন। নাসার বিজ্ঞানীরা এবার আইসল্যান্ড ও স্পেনে বিশেষ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন।
আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ও বিজ্ঞানপ্রেমীদের ভিড়
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এমন বিরল সুযোগ আসায় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিজ্ঞানপ্রেমী ও পর্যটকরা পূর্ণগ্রাসের পথজুড়ে জড়ো হয়েছেন। তবে অনেক জায়গায় মেঘলা আকাশ বা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সরাসরি দৃশ্য উপভোগে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
