মার্কিন-ইরান আলোচনায় বাধা দিলে ওমানে ‘বোমা হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার উদ্যোগে ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটিতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুমকি দেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ ও আলোচনা অচলাবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমান আলাদাভাবে আলোচনা করছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইয়িংস্টকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় ‘বাধা’ হয়ে দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ‘বাধা সৃষ্টি’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেননি। পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওমানের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও দেশটির সঙ্গে সহজেই মোকাবিলা করার কথা বলেন তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, জাহাজ চলাচলের ট্রানজিট রুটের মানচিত্র নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। চূড়ান্ত যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে এর বিস্তারিত বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়ুন: স্কুলে গুলি, নিহত দুই শিক্ষার্থী
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ওমান দীর্ঘদিন ধরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রণালিটি পুনরায় চালুর বিষয়েও তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা
ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খুলবে না। এসব শর্তের মধ্যে ইরানের ওপর অবরোধ ও তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধের বিষয় রয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্য পরিবহনমূল্যের একটি অংশ ফি হিসেবে নেওয়ার বিষয়েও তেহরানের অবস্থানের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আইআরজিসির সঙ্গে গোপন যোগাযোগের দাবি
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি একটি গোপন যোগাযোগের পথ রয়েছে।
আরও পড়ুন: যে কারণে ইমরান খানকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ
তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে আইআরজিসি। বাহিনীটির এক মুখপাত্র ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ইরানিদের ‘ভালো পোকার খেলোয়াড়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক নম্বর লক্ষ্য’ বলে আবারও উল্লেখ করেন তিনি।
৬০ দিনের সমঝোতার মেয়াদ শেষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। এর লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে হলেও পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে।
সোমবার ওই ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই দেশের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
