ট্রাম্পের নতুন কৌশল, কিমের দখলে দক্ষিণ কোরিয়া?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানের পর দেশটির সঙ্গে সামরিক সহযোগিতায় কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন তিনি। ফলে ওয়াশিংটনের কোরিয়া নীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর যুক্তি, এসব মহড়া পরিচালনায় বিপুল ব্যয় হয় এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে এগুলো শত্রুতামূলক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: পিংক বাসের সেবা নিতে পারবে কি পুরুষরা?
এমন বক্তব্য এসেছে ১১ দিনের ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া শুরুর সময়। এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছেন। যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে এতে লাইভ-ফায়ার প্রশিক্ষণ, নদী পারাপার এবং দ্রুত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের মতো বিভিন্ন অনুশীলন রয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে সিউল তাতে সম্মতি দেয়নি।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা জানালো ভারত
এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ‘খুব ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। ২০১৯ সালে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে গেলেও দুই নেতার মধ্যে যোগাযোগের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান দেশটির দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কারণ, উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মহড়াকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়। তাই মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন উত্তরের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ হতে পারে, অন্যদিকে এটি সিউলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘প্রধানমন্ত্রী আমার দুলাভাই, শালী হিসেবে অনেক দাবি আছে’
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান তাই একাধিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। তিনি কি সামরিক ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কিমের সঙ্গে আলোচনার নতুন পথ তৈরি করতে চাইছেন? নাকি এটি কোরীয় উপদ্বীপ নিয়ে তাঁর বৃহত্তর কৌশলের অংশ?
বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত থাকার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার পরিসর কমলে তার প্রভাব কী হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ওয়াশিংটনের এই নীতির ফলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমবে, নাকি দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হবে- তা সময়ই বলে দেবে।
