আড়াই কোটির বাজার দেড় কোটিতে, তথ্য চাওয়ায় ‘হাইকোর্ট’ দেখালো ইউএনও
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
একসময় প্রায় আড়াই কোটি টাকায় ইজারা হওয়া ঝিনাইগাতী সদর বাজারের ইজারামূল্য নেমে এসেছে দেড় কোটির ঘরে। এই কমে যাওয়ার কারণ ও ইজারার বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়ায় তথ্য না দিয়ে উল্টো ‘ইংরেজি সালের’ অজুহাত দেখিয়েছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন। সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর বাজারটি প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে বাজারটি প্রতিবছর প্রায় আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত ইজারা দেওয়া হতো। তবে পরবর্তী সময়ে রহস্যজনক কারণে গত দুই বছর ধরে বাজারটির ইজারামূল্য কমে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গত দুই বছরে সরকার প্রায় ৩ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ।
এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত ফরমে ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঝিনাইগাতী সদর বাজারের প্রতিবছরের ইজারামূল্য জানতে চাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তথ্য অধিকার আইনের আবেদনে ২০২০ থেকে ২০২৫ ইংরেজি সাল উল্লেখ করায় ইউএনও মো. আল আমীন তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয় বাংলা সালের হিসাবে। তাই ইংরেজি সাল উল্লেখ করে তথ্য চাওয়ায় তথ্য দেওয়া যাবে না।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সরকারি নথিতে ইজারার তথ্য সংরক্ষিত থাকার পর শুধু সাল ইংরেজি না বাংলা হওয়াকে কেন্দ্র করে তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতির সুযোগ রয়েছে কি না।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বাজারের ইজারামূল্য প্রতিবছর কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, তা প্রকাশ করা হলে ইজারা ব্যবস্থাপনা ও সরকারি রাজস্ব আদায়ের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে গত দুই বছরে ইজারামূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কারণও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. আল আমীনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বাংলা সালের ভিত্তিতে হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
