×

বরিশাল

কর্মস্থলে না এসেও বেতন, শিক্ষিকার টাকায় মাদ্রাসা চালানোর অভিযোগ

Icon

কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

কর্মস্থলে না এসেও বেতন, শিক্ষিকার টাকায় মাদ্রাসা চালানোর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও এক শিক্ষিকা ও চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে এক শিক্ষিকার বেতনের টাকা দিয়ে নূরানী মাদ্রাসা পরিচালনার অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নিজেই। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষিকা সুমাইয়া খানম( বাংলা সহকারী শিক্ষিকা )২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাদ্রাসায় যোগ দেন। এরপর তিনি মাতৃত্বকালীন ছয় মাস ছুটিতে যান। পরে মাদ্রাসায় যোগ দিলেও বর্তমানে অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ অলিউল্লাহ খান।

অধ্যক্ষ বলেন, সুমাইয়া খানম যোগদানের পর প্রায় চার মাস ক্লাস করেছেন। এরপর মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে বাড়িতে যান। পরে কাজে যোগ দিলেও অসুস্থতার কারণে বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তবে তার ছুটির আবেদন দেখতে চাইলে অধ্যক্ষ প্রথমে আবেদনটি মাদ্রাসায় থাকার কথা জানান। পরে তা দেখাতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আবেদনটি কোথায় রাখা হয়েছে তা তিনি জানেন না।

অধ্যক্ষ আরও স্বীকার করেন, সুমাইয়া খানমের বেতনের টাকা দিয়ে একটি নূরানী মাদ্রাসা পরিচালনা করা হয়। বিষয়টি মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে একজন শিক্ষিকার বেতনের টাকা দিয়ে নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন দেওয়া ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেন অধ্যক্ষ।

তবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দাবি, যোগদানের পর সুমাইয়া খানম মাত্র দুই-তিন দিন মাদ্রাসায় এসেছিলেন। এরপর তাকে নিয়মিত দেখা যায়নি। এমনকি তিনি তাদের কোনো ক্লাসও নেননি। অন্যদিকে, মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক সুমাইয়া খানমের বেতনের টাকা দিয়ে নূরানী মাদ্রাসা পরিচালনার বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে সুমাইয়া খানম বলেন, অসুস্থ হয়ে তিনি মাদ্রাসা থেকে চলে এসেছেন এবং এ বিষয়ে মেডিকেল রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। তবে তিনি ছুটি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়ে আসিনি।’ তার এ বক্তব্যের সঙ্গে অধ্যক্ষের বক্তব্যের অসঙ্গতি রয়েছে।

এদিকে মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. মোস্তফার বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মোস্তফা দাবি করেন, তিনি ছয় থেকে সাত মাস ছুটিতে ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে বাহাদ্দিন সরদার নামের একজনকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। তাকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন মোস্তফা।

অভিভাবক মো. বাচ্চু গাজী, আতিক গাজী ও আলাউদ্দিন গাজীর অভিযোগ, সুমাইয়া খানমকে তারা মাদ্রাসায় নিয়মিত দেখেননি। স্থানীয় অনেকেই তাকে ভালোভাবে চেনেন না। তার বেতনের টাকা দিয়ে নূরানী মাদ্রাসা পরিচালনা করা হয় বলেও তারা শুনেছেন।

অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান তারা।

রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদী কুমার বাহাদুর বলেন, ‘বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম। মাদ্রাসার প্রধানের সঙ্গে কথা বলব। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নিয়ে সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আপনার কাছ থেকে অবহিত হলাম। প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগগুলোর মধ্যে বিশেষ করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলন, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর এবং একজন শিক্ষিকার বেতনের অর্থ অন্য একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যবহারের বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার, আহত ১০

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার, আহত ১০

আইএমএফের চুক্তি ‘বাতিল করে দিয়েছি’: অর্থমন্ত্রী

আইএমএফের চুক্তি ‘বাতিল করে দিয়েছি’: অর্থমন্ত্রী

আড়াই কোটির বাজার দেড় কোটিতে, তথ্য চাওয়ায় ‘হাইকোর্ট’ দেখালো ইউএনও

আড়াই কোটির বাজার দেড় কোটিতে, তথ্য চাওয়ায় ‘হাইকোর্ট’ দেখালো ইউএনও

কর্মস্থলে না এসেও বেতন, শিক্ষিকার টাকায় মাদ্রাসা চালানোর অভিযোগ

কর্মস্থলে না এসেও বেতন, শিক্ষিকার টাকায় মাদ্রাসা চালানোর অভিযোগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App