×

আন্তর্জাতিক

ড্রোনে ধরা পড়ল নেপালে হিমবাহ ধসের ভয়াবহ দৃশ্য

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

ড্রোনে ধরা পড়ল নেপালে হিমবাহ ধসের ভয়াবহ দৃশ্য

ছবি : সংগৃহীত

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ। বিধ্বংসী এ বন্যার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রমাণ মিলেছে ড্রোনে ধারণ করা ভিডিওতে। খবর এনডিটিভির।

চীনের এক আলোকচিত্রীর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ৭ হাজার ২০০ মিটারের বেশি উচ্চতার লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের কাছে পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও হিমবাহের বরফ ভেঙে নিচের দিকে নেমে আসছে। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়জুড়ে তৈরি হয় ধুলার বিশাল মেঘ।

পাথর, বরফ, কাদা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে থাকা উপত্যকায় গিয়ে আছড়ে পড়ে। এর পরই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ফুলে-ফেঁপে ওঠে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী। গত ২৬ আগস্টের এ দুর্যোগে নেপালে ৯ শতাধিক এবং তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

‘কল্পনাতীত’ দুর্যোগের মুখে নেপাল

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, দেশ বর্তমানে ‘কল্পনাতীত ও হৃদয়বিদারক’ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। ভয়াবহ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাসুয়া এলাকায় ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষতি এবং অবকাঠামো ধ্বংসের পূর্ণ হিসাব করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির আসনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার, জয়ের আশা

প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং এখনও বিদ্যমান ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মানুষের জীবন রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

বালেন্দ্র শাহ বলেন, ঐক্যবদ্ধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নেপাল এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।

বাড়ছে হিমবাহ ও পাহাড় ধসের ঘটনা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমবাহ, বরফ ও পাহাড় ধসের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

২০২১ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডের রন্টি পিক থেকে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট পাথর ও বরফ ধসে পড়ে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল পাথর এবং ২০ শতাংশ বরফ। এ ঘটনায় একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়। প্রায় ২০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন, যাদের অনেকেই ছিলেন বাঁধের কর্মী।

২০২৩ সালে ভারতের সিকিমে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জমাট মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলে দক্ষিণ লোনাক হ্রদে ভয়াবহ পাহাড়ধস হয়। এতে হিমবাহের হ্রদ আটকে রাখা প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যায় এবং বিশাল পানির ঢল নেমে আসে। এতে ১ হাজার ৩০০ কোটির বেশি গ্যালন পানি পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে একাধিক বাঁধ, ২৫ হাজারের বেশি ভবন এবং ৩০টির বেশি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে সুইস আল্পসে বার্চ হিমবাহ থেকে প্রায় ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর ও বরফ ধসে পড়ে। এতে ব্লাটেন গ্রামের বড় একটি অংশ বরফ ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে।

একের পর এক এমন ঘটনায় হিমালয় ও বিশ্বের অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাওয়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সন্তান বিক্রি করে আইফোন কিনলো বাবা, অতঃপর...

সন্তান বিক্রি করে আইফোন কিনলো বাবা, অতঃপর...

নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ২৫ উন্নয়ন প্রকল্প স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ২৫ উন্নয়ন প্রকল্প স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

এবার রাবি শিক্ষিকার ব্যাগ ছিনতাই, সঙ্গে ছিল আইফোন-কার্ড

এবার রাবি শিক্ষিকার ব্যাগ ছিনতাই, সঙ্গে ছিল আইফোন-কার্ড

বিচ্ছেদের পর প্রতারণা নিয়ে মুখ খুললেন আকাঙ্ক্ষা চামোলা

বিচ্ছেদের পর প্রতারণা নিয়ে মুখ খুললেন আকাঙ্ক্ষা চামোলা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App