সন্তান বিক্রি করে আইফোন কিনলো বাবা, অতঃপর...
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পটুয়াখালীর দশমিনায় নিজের দেড় বছর বয়সী ছেলেকে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মারুফ মুন্সি (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ। পরে শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আইফোন কেনার জন্য টাকা জোগাড় করতেই সন্তানকে বিক্রি করেছেন মারুফ।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে মারুফকে ঢাকা থেকে দশমিনা থানায় আনা হয়। একই সময়ে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মারুফ দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
আরও পড়ুন: পে স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত আজ
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব নেন তার দাদি মাহফুজা বেগম।
মাহফুজা বেগম জানান, শনিবার সকালে মারুফ শিশুটিকে নতুন পোশাক পরিয়ে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, ঢাকায় মারুফের সহকর্মী ইমরান হোসেনের শ্বশুর মহিবুল শিশুটিকে টাকা দিয়ে নিয়ে গেছেন। মহিবুলের কোনো ছেলে সন্তান নেই বলে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, শিশুটির জন্য এক লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: শিশু আছিয়া হত্যা, হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
মাহফুজা বেগম অভিযোগ করেন, ওই টাকার সঙ্গে নিজের পুরোনো আইফোনের দাম যোগ করে মারুফ নতুন একটি আইফোন কিনেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
তবে সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মারুফ। রোববার রাতে পুলিশ হেফাজতে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে তার কিছু ধারদেনা হয়েছিল। সেই কারণে সহকর্মী ইমরান ও তার শ্বশুরের কাছে শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য দিয়েছেন। এ বাবদ তাদের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মারুফ ও শিশুটিকে উদ্ধার করে বলে জানান ওসি আতিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এ কারণে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
