ইব্রাহিম আজিজি
মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদায় নেওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই যুক্তরাষ্ট্রের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা ও কৌশলগত অচলাবস্থার বহিঃপ্রকাশ। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদায় নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ইরানে হামলা চালালে তার প্রতিক্রিয়া ‘অসমমিত’ (অপ্রচলিত পদ্ধতিতে পাল্টা আঘাত) ও ‘বহুস্তরীয়’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টম্বর) এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি।
এদিকে আবার হামলার বিষয়ে অগ্রিম সতর্ক বার্তা দিয়ে রেজা আরেফ বলেন, ‘সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা ইরানের নিরাপত্তা হিসাব ও প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ইরানের পাল্টা জবাব এমন হবে যাতে হামলাকারীকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলা যায়।’
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্যও সতর্কবার্তা দিয়ে আরেফ বলেন, ‘আমেরিকানদের এখন পেট্রোল ও জ্বালানি মজুত করার কথা ভাবা উচিত; মার্কিন অর্থনীতির সামনে অন্ধকার মাস অপেক্ষা করছে।’
তবে ভবিষ্যৎ হামলার ক্ষেত্রে ইরান ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে বা তা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে-সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আরো পড়ুন: স্কুল ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্ক, অতঃপর
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন করে সরাসরি সংঘাতের মধ্যে আরেফের এই বক্তব্য ইরানের রণকৌশলে ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
সম্প্রতি ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়। এছাড়া এ হামলায় আরও ৬৩ জন আহত হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী ও দেশটির বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
এদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র পূর্ববর্তী সমঝোতার প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই প্রণালিটি আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট-এর মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। এর আওতায় ইরানের তেল রাজস্ব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক উৎসকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
