×

জাতীয়

কম্বোডিয়ায় স্ক্যামের শিকার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

কম্বোডিয়ায় স্ক্যামের শিকার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

ছবি: সংগৃহীত

কম্বোডিয়ায় বিভিন্ন কাজের প্রলোভনে গিয়ে স্ক্যামের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন ৩৮ বাংলাদেশি। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর)  দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে  থাই এয়ারওয়েজের TG-321 ফ্লাইটে করে তারা ঢাকায় পৌঁছান।

এদিকে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

এর আগে, গত জুন মাসে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসেন। দেশটির সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা ছাড়া অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর এই ৩৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। এভাবে আরও প্রায় ১,৮০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফেরত আসা কর্মীরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া এবং তাদের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে তাদের আটকে রেখে প্রতারণামূলক সাইবার স্ক্যাম কার্যক্রমে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয়েছিল। ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী দেশে ফেরার পথে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ প্রয়োগ এবং দেশে ফেরত না যাওয়ার জন্য নানা ধরনের চেষ্টা করেছেন।”

আরো পড়ুন: স্কুল ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্ক, অতঃপর

শরিফুল হাসান বলেন, “সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের অন্যতম ভয়াবহ রূপ। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। নির্ধারিত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রকে শনাক্ত করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে এখনও হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে কিংবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অধিকাংশকেই উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।

গত জুন মাসে প্রথম ধাপে দেশে ফিরে আসা ৫৮৩ জনের অনেকের কাছেই বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল। এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। ফলে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ব্র্যাক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, গ্রেপ্তার যুবক

সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, গ্রেপ্তার যুবক

‘নতুন মোড়কে র‍্যাব’, এসআরবি বিল নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

‘নতুন মোড়কে র‍্যাব’, এসআরবি বিল নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

নতুন মোড়কে র‍্যাবকেই পুনর্গঠন করা হচ্ছে

র‍্যাব বিলুপ্ত নিয়ে নাহিদ নতুন মোড়কে র‍্যাবকেই পুনর্গঠন করা হচ্ছে

কম্বোডিয়ায় স্ক্যামের শিকার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

কম্বোডিয়ায় স্ক্যামের শিকার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App