ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয় ছাইয়ে আকাশ ঢেকে গেছে, জাকার্তায় ৩০১ ফ্লাইট ব্যাহত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে ‘আনাক ক্রাকাতাউ’ আগ্নেয়গিরি থেকে ব্যাপক ছাই নির্গত হওয়ায় দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আগ্নেয় ছাইয়ে আকাশ ঢেকে যাওয়ায় বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন শত শত যাত্রী। এ ঘটনায় জাকার্তাগামী ও জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়া শতাধিক ফ্লাইটের সূচিতে ব্যাঘাত ঘটেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জাকার্তার সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আগ্নেয়গিরিটি বিমানবন্দর থেকে ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা আংকাসা পুরা জানিয়েছে, বিমান চলাচল বন্ধ রাখার কারণে মোট ৩০১টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসও দিনের বাকি সময়ের জন্য জাকার্তাগামী এবং জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়ার সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। আগ্নেয় ছাই উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিনে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি এটি পাইলটদের দৃষ্টিসীমাও কমিয়ে দেয়। এ কারণে ইন্দোনেশিয়ার একাধিক বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, সোকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দর ছাড়াও আরও ছয়টি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং সুমাত্রার বান্দার লাম্পুংয়ের কাছে অবস্থিত রাদিন ইনতেন-২ বিমানবন্দর। এ ছাড়া সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি শহরের বিমানবন্দরকে বিকল্প অবতরণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আগ্নেয় ছাইয়ের প্রভাব বিমান চলাচলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ছাইয়ের কারণে চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তি দেখা দেওয়ায় কয়েকটি স্কুলের নির্ধারিত কার্যক্রমও বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে আনাক ক্রাকাতাউয়ে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় বিকট শব্দ শোনা যায়, যা আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছায়।
অগ্ন্যুৎপাতের ফলে জাভা দ্বীপের দিকে ছাই প্রায় ৬ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠে যায়। অন্যদিকে সুমাত্রা ও জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকায় ছাইয়ের স্তম্ভ ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। রোববার আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, এই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ছাই সরিয়ে ফেলতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বিএনপিবির প্রধান সুহারইয়ান্তো বলেন, পর্যাপ্ত ভারী বৃষ্টি হলে আগ্নেয় ছাই ধুয়ে যাবে। এতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সৃষ্ট সমস্যাও অনেকটা কমে আসবে।
আনাক ক্রাকাতাউয়ের উৎপত্তি ১৯২০-এর দশকে সমুদ্রের বুক থেকে। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া বিশাল ক্যালডেরার ভেতর থেকেই এর জন্ম। ওই অগ্ন্যুৎপাত নথিভুক্ত ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী আগ্নেয়গিরির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
এরপরও আগ্নেয়গিরিটিতে কয়েক দফা অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে পড়লে সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রার উপকূলে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
