নারীবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াতের ১৫ দফা প্রস্তাব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীবান্ধব, নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ১৫ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগ। রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, নৈতিকতা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলাই হওয়া উচিত শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের উদ্যোগে ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিতরূপ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি বলেন, জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, আল্লাহভীতি, মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা ও চরিত্র গঠনের সমন্বিত শিক্ষা একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়ের পরিবর্তিত বাস্তবতায় নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের আলাদা পে-স্কেল দেওয়া হবে
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ‘মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশে শিক্ষার ভূমিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. রাশিদাহ। তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবেও শিক্ষাকে গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেন, শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জন কিংবা জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়; বরং একজন মানুষের চিন্তা, চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গঠনের প্রধান ভিত্তি। যে শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস তৈরি করে না, সে শিক্ষা সমাজ ও রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে না।
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়লা মরিয়মের সঞ্চালনায় সেমিনারে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর রেহানা সুলতানা বলেন, একটি সমাজের নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাফিয়া সুলতানা ‘জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থা: পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার ধরন, তাদের প্রয়োজন ও চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
‘নারী শিক্ষা ও নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নারীবান্ধব শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনায় ড. ফেরদৌস আরা বকুল নারীর শিক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও নারীবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন নয়- নৈতিকতা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলাই হওয়া উচিত শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পরিবর্তিত সময় ও প্রজন্মের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নৈতিক, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবা খাতুন শরিফা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগীয় সম্পাদিকা ডা. শিরিন আক্তার রুনা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জান্নাতুল কারীম সুইটি, রাহেমা চৌধুরী বেবী, কানিজ ফাতেমা, ড. জান্নাত আরা শেলী, তানহা আজমী, নার্গিস খান, রাবেয়া খানম, সেলিনা পারভীনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সেমিনারে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে ১৫ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন নারী নেত্রী জান্নাতুল কারীম সুইটি।
