টাঙ্গানিকা হ্রদে নৌকাডুবি, নিহত ৪১
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কঙ্গোর টাঙ্গানিকা হ্রদে একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
দেশটির তাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোয়ি জানিয়েছেন, ‘নৌকাটিতে থাকা বাকি যাত্রীদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌকাটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ও পণ্য ছিল। বৃহস্পতিবার কঙ্গোর মাপেরা গ্রামের কাছাকাছি এলাকায় নৌকাটি ডুবে যায়।
তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ডিআর কঙ্গোর কালেমি শহরের দিকে যাচ্ছিল নৌকাটি। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যাত্রাপথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এটি।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া অ্যানি মোয়োনি জাতিসংঘের সহায়তায় পরিচালিত কঙ্গোলিজ সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপিকে বলেন, রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ যাত্রীদের ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়। এ সময় তারা বুঝতে পারেন, নৌকাটি একদিকে হেলে পড়ছে।
আরো পড়ুন: জাতিসংঘে 'ইউনিভার্সাল কার্ড' চালুর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
নৌকাটি ঠিক কী কারণে ডুবে গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিআর কঙ্গোতে একাধিক নৌদুর্ঘটনায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির অনেক নৌযানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয় এবং পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটও থাকে না।
অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা ডিআর কঙ্গোতে বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য নৌপথ এখনো তুলনামূলক সস্তা ও সহজ যোগাযোগের মাধ্যম। এক কোটির বেশি মানুষের এই দেশে জনসংখ্যার প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক ও অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।
এদিকে, এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে কিগোমা-কালেমি নৌপথে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট কিগোমা বন্দরে জ্বালানি নেওয়ার সময় কঙ্গোর ‘এমভি প্যাসিফিক’ নামের একটি নৌযানে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে বলে রেডিও ওকাপি জানিয়েছে। ওই ঘটনায় ছয়জন ক্রু নিহত হন। আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রেডিও ওকাপি জানায়, ‘এমভি প্যাসিফিক’ কিগোমা ও কালেমির মধ্যে চলাচল করত এবং জ্বালানি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।
