বেলুচিস্তানে সেনা অভিযানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ৭১ জন নিহত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে গত ৯৬ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৭১ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। নিহতদের ভারত ও আফগানিস্তানের মদতপুষ্ট বলে অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে ভারত ও আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে কথিত দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে প্রবেশ করার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। আফগান বাহিনীর দাবি, ওই অভিযানে ২৮ জন নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, নুরিস্তান বা আফগানিস্তানের অন্য কোনো এলাকায় অভ্যন্তরীণ সংঘাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ এবং আফগানিস্তানে সক্রিয় দায়েশ বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগও অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান। তবে নয়াদিল্লি ও কাবুল এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তান আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়ে আসছে। একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত টিটিপি পাকিস্তানে বিভিন্ন হামলার জন্য দায়ী বলে ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে।
পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি সদস্যদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসে। এরপর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। এসব হামলার বড় একটি অংশ টিটিপি চালিয়েছে বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাটে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩১ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার পর আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানায় পাকিস্তান। দেশটির তথ্য মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ইসলামাবাদ ওই হামলাকে ‘পরিকল্পিত, নির্ভুল, পরিমিত ও আনুপাতিক’ বলে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তানের দাবি, হামলা শুধু শনাক্ত করা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এসব স্থাপনা পাকিস্তানে ড্রোন হামলার চেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিল।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আফগান তালেবান সরকারকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বৈরী তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর, সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান।
