পবিত্র জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
মাহিদুল হোসেন সানি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ধর্মে জুমার দিন বা শুক্রবার অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। একে 'ইয়াওমুল জুমা' বা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয়। হাদিস শরিফে এই দিনটিকে 'গরিবের হজের দিন' এবং মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জুমার নামাজের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্বের কারণে এই দিনে মসজিদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতি অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।
জুমার দিনের প্রধান ফজিলত ও গুরুত্ব:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন হলো শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। আর জুমার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।" (সহিহ মুসলিম)।
এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের ছোটখাটো গুনাহগুলো আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন। শর্ত হলো, বান্দাকে কবিরা বা বড় গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে। জুমার দিনে এমন একটি বরকতময় মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা নিশ্চিতভাবে কবুল করেন।
বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি সময়। উলামায়ে কেরামদের মতে, এই সময়টি হলো আসরের পর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, আগে আগে মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং কোনো অনর্থক কাজ করে না—তার মসজিদে আসার প্রতি কদমে (পদক্ষেপে) এক বছরের নফল রোজা ও এক বছরের নফল নামাজের সওয়াব দান করা হয়।" (সুনানে তিরমিজি)।
জুমার দিনের করণীয় ও সুন্নতসমূহ:
১. জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে উত্তমরূপে গোসল করা সুন্নত।
২. সাধ্যমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করা।
৩. জুমার আজানের পর দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব মসজিদে গমন করা। যে যত আগে যাবে, তার সওয়াব তত বেশি (যেমন: প্রথম ভাগে গেলে একটি উট কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায়)।
৪. জুমার দিনে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করলে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তিলাওয়াতকারীর জন্য একটি বিশেষ নূর বা আলো চমকাতে থাকে।
৫. এই বরকতময় দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
জুমার নামাজ কেবল একটি সাপ্তাহিক ইবাদতই নয়, বরং এটি মুসলিম সমাজের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক মেলবন্ধনের এক অনন্য মাধ্যম। খুতবার মাধ্যমে সমসাময়িক নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। তাই জুমার দিনের প্রতিটি মুহূর্ত হেলায় না হারিয়ে, সঠিক নিয়মে ইবাদত ও আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই প্রত্যেক মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
