বিরোধীদলীয় নেতা
গণভোট ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে গণভোটে ৭০ ভাগ জনগণ রায় দিয়েছে, সেই একই দিনের ভোটে আপনারা সরকার বলে এখন দাবি করছেন। ওই গণভোট না থাকলে এই সরকারও মানা হবে না। ওই গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। ওই গণভোট মানতে জনগণ আপনাদের বাধ্য করবে ইনশাআল্লাহ।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, সেই একই দিনের নির্বাচনের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করা হলে সরকারও জনগণের সমর্থন হারাবে। জনগণই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের পর ক্ষমতায় এসে দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেনি, পরে তা উপলব্ধি করতে হয়েছে। এখনো সময় আছে, জাতির ক্ষতি হওয়ার আগেই বাস্তবতা অনুধাবন করা উচিত। তিনি বলেন, আমরা রাজপথে থাকতে চাই না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই। কিন্তু আমাদের যদি বারবার রাজপথে নামতে বাধ্য করা হয়, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তার ভাষ্য, জনগণ অতীতের রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসে সেই অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাতেই সংবিধান সংস্কারের কথা ছিল। অথচ এখন তারা সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। তিনি সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং এ ধরনের উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল হবে না। তার অভিযোগ, একতরফাভাবে সংবিধানে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের মানুষ জীবন দিয়েছে, নির্যাতন সহ্য করেছে এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছে। তার দাবি, জনগণ আর কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন মেনে নেবে না।
১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে জারি হওয়া যেসব অধ্যাদেশ কর্তৃত্ববাদী শাসনকে শক্তিশালী করেছিল, সেগুলো বাতিল না করে বহাল রাখা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের ইতিহাসকে আড়াল করার কোনো চেষ্টা সফল হবে না। তিনি বলেন, ১৯৭১ যেমন বাংলাদেশের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনেরও নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। উভয় ইতিহাসকে তাদের নিজ নিজ মর্যাদায় সংরক্ষণ করতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন এবং ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
