রানা প্লাজা ‘দুর্নীতি’
রায় পেছাল ভবনের মালিক সোহেল রানাসহ ৮ আসামির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি মামলায় ভবনের মালিক সোহেল রানাসহ ৮ আসামির রায় পিছিয়ে গেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় বিচারক ১ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ রেখেছেন বলে বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- ভবনের মালিক সোহেল রানা, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।
এদিকে, সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। রোববার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক। মামলার অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন এবং রোববার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
মামলার বিচার চলাকালে আসামি সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনা
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ধসে পড়ে ১০ তলা রানা প্লাজা। ভবনটিতে থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানার প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
টানা কয়েকদিন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১ হাজার ১৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে। তাদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক আহত হন এবং অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
ঘটনার পাঁচ দিন পর, ২৯ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের বেনাপোল এলাকা থেকে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন ভবনটির মালিক সোহেল রানা।
মামলা ও তদন্ত
রানা প্লাজা ধসের পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশা ও অনুমোদনের বাইরে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম।
ভবনটি সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেকের নামে থাকায় প্রাথমিকভাবে তাকে আসামি না করে তার বাবা-মাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে তদন্তে ভবনটির মূল তদারককারী হিসেবে সোহেল রানার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে পরবর্তী অভিযোগপত্রে তাকেও আসামি করা হয়।
আরো পড়ুন: মডেল রিধির আত্মহত্যায় কারাগারে প্রেমিক
২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা মোট ১৮ জনকে আসামি করে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। পরে আটজনকে অব্যাহতি দিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রানা প্লাজা’ নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা নকশা অনুমোদন করে। পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ভবনের ওপর আরও চারটি তলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আগের অনুমোদনের তথ্য গোপন করে নতুন নথি তৈরি করে ১০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন করা হয়। এছাড়া ভবনটি মূলত শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে নির্মাণের কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিচার কার্যক্রম
২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচারকাজ চলাকালে মোট ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এদিকে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে পৃথক একটি মামলা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
