অপারেশন ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’
সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর ২ সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে
মো. সুজন মোল্লা ও ইমাম মেহেদী হাসান, বাগেরহাট
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সুন্দরবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এ কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই অভিযানে তাদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এর ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠবারের মতো পরিচালিত ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এ করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের ঢাংমারী খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। পরে রোববার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি বিশেষ আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
আটক দুই ব্যক্তি হলেন, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)।
কোস্ট গার্ডের দাবি, রাজন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
