বাগেরহাটে স্কুল ফিডিংয়ের ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ
শরণখোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দেওয়া সিদ্ধ ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে তাদের প্রথমে রায়েন্দা পাঁচ রাস্তার মোড়ে অবস্থিত গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর ধানসাগর ইউনিয়নের ৯৮ নম্বর পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিভাবক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুপুরে টিফিন হিসেবে সিদ্ধ ডিম দেওয়া হয়। ডিম খাওয়ার কিছুক্ষণ পর ১১ জন শিক্ষার্থী পেটব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক দ্রুত রায়েন্দা পাঁচ রাস্তা এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো: মিতু, আব্দুন নূর, ফারিয়া, রাবেয়া, রুমানা, সুমা, আফিফা, হুমায়রা, তামান্না, তানজিলা ও সিফা।
গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল কায়সার জানান, শিক্ষার্থীদের স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে সুস্থ বোধ করলে অভিভাবকরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।
খাদ্য সরবরাহকারী আলিম আল রাজী মুক্তি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত শনিবার ডিম সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। পরে রোববার ডিম বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার ধারণা, রোববার সরবরাহ করা ডিম বুধবার সিদ্ধ করে পরিবেশন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে কিছু ডিম নষ্ট থাকতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, রোববার সরবরাহ করা ডিম থেকেই বুধবার শিক্ষার্থীদের জন্য ডিম সিদ্ধ করা হয়েছিল। ওই ডিমের কিছু নষ্ট থাকায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনির আহমেদ বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। বর্তমানে বাগেরহাটে একটি সভায় থাকায় বিস্তারিত জানতে পারেননি। তবে তিনি ঘটনাটি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অর্থিতা হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে খাদ্যের মান বা সরবরাহে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মো. বাতেন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
