ডিসেম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ডিসকাউন্ট ফেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ড ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মানসম্মত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আকর্ষণীয় ছাড়ের উৎসব ‘ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট ২০২৬’। দেশে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে এই আয়োজনে অংশ নেবে দেশি-বিদেশি ২৫০টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এতে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন ক্রেতারা। এছাড়াও নির্বাচিত কিছু পণ্য ও সেবার ওপর থাকবে এক্সাইটিং অফার, ফ্ল্যাশ সেল ও সীমিত সময়ের বিশেষ মূল্যছাড়।
আজ বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ইভেন্টকমের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে সহযোগী হিসেবে রয়েছে ভ্যানটোরা কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। পিআর পার্টনার হিসেবে রয়েছে ওপাস কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ‘ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট ২০২৬’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তাসলিম আমিন শোভন, হেড অব অপারেশনস শফিকুল ইসলাম এবং চিফ ফ্যাসিলিটেটর, উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট জিন্নাত আরা বারী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। ক্রেতারা যেন একই ছাদের নিচে নামকরা সব ব্র্যান্ডের পণ্য আকর্ষণীয় মূল্যে কিনতে পারেন, সেই সুযোগ সৃষ্টি করা। ‘ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট ২০২৬’ একই সঙ্গে স্থানীয় রাইজিং ব্র্যান্ডগুলোকেও পরিচিত করবে। পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, মেলায় অংশগ্রহণে আগ্রহী ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের জন্য থাকছে বিশেষ সুযোগ। আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে আর্লি বার্ড স্টল বুকিং করলে তারা ফ্ল্যাট ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট পাবেন।
এ বিষয়ে ‘ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. তাসলিম আমিন শোভন বলেন, ‘ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট ২০২৬ দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ড এবং ক্রেতাদের মধ্যে অর্থবহ যোগাযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের আয়োজন খুচরা বাজার, ক্রেতাদের সঙ্গে ব্র্যান্ড-প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ব্র্যান্ড ইকোসিস্টেমকে আরও গতিশীল করবে।’
ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্টের হেড অব অপারেশনস শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন হতে যাওয়া ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্টে আকর্ষণীয় ছাড়ে ক্রেতাদের কাছে মানসম্মত পণ্য পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ড এখানে অংশগ্রহণ করবে। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সেরা অফার এখানে পাওয়া যাবে। ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট বাংলাদেশের রিটেইল, ব্র্যান্ড মার্কেটিং এবং কনজ্যুমার এনগেজমেন্টে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে নতুন বাজার, নতুন গ্রাহক এবং সম্ভাবনার নতুন দ্বার।’
উৎসবে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্টের চিফ ফ্যাসিলিটেটর, উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট জিন্নাত আরা বারী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের হাজারো নারী উদ্যোক্তা অত্যন্ত মানসম্মত পণ্য তৈরি করছেন। কিন্তু তাদের অনেকের জন্য বৃহৎ পরিসরে ক্রেতার কাছে পৌঁছানো, ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি করা এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়া এখনও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ডিসকাউন্ট ফেস্ট সেই সীমাবদ্ধতা দূর করবে। এখানে নারী উদ্যোক্তারা পণ্য বিক্রির পাশাপাশি হাজার হাজার সম্ভাব্য ক্রেতা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ডিস্ট্রিবিউটর, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের ব্র্যান্ড উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।’
আয়োজকরা জানান, এখন থেকে প্রতিবছরই ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার আয়োজন সফল হওয়ার পর দেশের প্রধান বিভাগীয় শহরগুলোতেও প্রতিবছর এই আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছর ১১-১৩ মার্চ চট্টগ্রামে, ১৩-১৫ মে রাজশাহীতে, ১০-১৩ জুন সিলেটে এবং ৯-১১ সেপ্টেম্বর খুলনায় বর্ণাঢ্য এই ডিসকাউন্ট ফেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশের বাইরেও এ ধরনের ডিসকাউন্ট ফেস্ট আয়োজনের আগ্রহের কথা জানান আয়োজকরা। তবে কবে এবং কোন দেশে প্রথম এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
