ডুমুরিয়ায় উন্নয়ন তহবিল সংকটে থমকে প্রকল্প বাস্তবায়ন
বাবুল আকতার, খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় উন্নয়ন তহবিলের অর্থ সংকটের কারণে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তহবিলে অর্থ না থাকায় টেন্ডার সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। এতে একদিকে উন্নয়নকাজ থমকে আছে, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঠিকাদাররা।
উপজেলা প্রশাসন, প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭২৯ টাকা। এ অবস্থায় নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিল পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, উন্নয়ন তহবিলে ৭ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৬২২ টাকা জমা ছিল। তবে প্রায় ১০ মাস পর চলতি বছরের ২১ মে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, ওই তহবিলে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭২৯ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৭ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৩ টাকা ব্যয় হয়েছে।
এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ নেওয়া হলেও অর্থ সংকটের কারণে সেগুলোর বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, সাতটি প্যাকেজের আওতায় ৫৪টি উন্নয়নকাজ, যার প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৮০ লাখ টাকা, ইতোমধ্যে টেন্ডার ও লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুই মাস পার হলেও নির্বাচিত ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বাকি প্রায় ৯০ লাখ টাকার প্রকল্প এখনো দরপত্র আহ্বানের পর্যায়ে রয়েছে।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, নলকূপ স্থাপন, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং পেভার ব্লক বসানোর কাজ।
ডুমুরিয়া উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, টেন্ডারে অংশ নিতে প্রতিটি ঠিকাদারের প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। লটারির মাধ্যমে কাজ পাওয়ার পরও উপজেলা প্রশাসন কার্যাদেশ দিচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান, দরপত্র গ্রহণ এবং লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু উপজেলা উন্নয়ন তহবিলে অর্থ না থাকায় কার্যাদেশ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, “উন্নয়ন তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এখন কার্যাদেশ দিলে ঠিকাদাররা কাজ শেষ করে বিল জমা দেবেন, কিন্তু সেই বিল পরিশোধের মতো অর্থ আমাদের হাতে নেই। বিষয়টি ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়েছে।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, উপজেলা উন্নয়ন তহবিলে অর্থ সংকট থাকায় ডুমুরিয়া উপজেলার কয়েকটি প্রকল্পে টেন্ডার সম্পন্ন হলেও কার্যাদেশ দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থের সংস্থান না হওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু করা কঠিন হবে।
উন্নয়ন তহবিলের অর্থ সংকটের কারণে উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
