কুষ্টিয়া স্টেশনে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ, ট্রেন আটকে বিক্ষোভ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন। এতে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন শফিউল আওয়াল সুমন (৪০) ও তার বাবা আব্দুর রহিম (৬৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ট্রেনের লোকোমাস্টার ও পরিচালক সেখান থেকে চলে যান। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহত শফিউল আওয়াল সুমন অভিযোগ করেন, বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়। তিনি অসুস্থ মা ও বাবাকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার উদ্দেশে ট্রেনে উঠতে গেলে এক কর্মী বাধা দেন। একপর্যায়ে ওই কর্মী তার মাকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে যান। এ নিয়ে বগির ভেতরে বাগ্বিতণ্ডার সময় ওই কর্মী তাকে ও তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের হাতে আঘাত লাগে। অভিযুক্ত কর্মীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় বলে তিনি দাবি করেন।
কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ ইতি খাতুন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার বলেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রীর অভিযোগ, ট্রেনের বগির দায়িত্বে থাকা এক কর্মী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
